ঐতিহ্যবাহী মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন হুমায়ুন কবীর। মাঠের রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের যে চর্চা, তাকে একপ্রকার নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘রাজনীতি-মুক্ত ময়দান’ বাস্তবে সম্ভব নয়। তাঁর এই মন্তব্য ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ঠিক কী বললেন হুমায়ুন? দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর বলেন, “খেলা এবং রাজনীতি আলাদা—এই ধারণাটি এক ধরনের ভ্রান্তি। ময়দান রাজনীতির ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিটি ক্লাবের সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জনমানস ও সমাজের প্রভাব জড়িত থাকে, আর সেটাই পরোক্ষভাবে রাজনীতি।” তিনি আরও যোগ করেন, রাজনীতির নামে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নয়, বরং ময়দানকে ইতিবাচক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু করে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
কেন এই মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ? বাঙালি ক্রীড়া প্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিতর্ক রয়েছে—ক্লাব ফুটবলে রাজনীতির অনুপ্রবেশ কতটা সঠিক? ময়দান যে বরাবরই রাজনীতির চারণভূমি ছিল এবং থাকবে, তা সরাসরি স্বীকার করে নিয়ে হুমায়ুন কবীর এক নতুন বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছেন যে, ক্লাব চালাতে গেলে প্রশাসনিক ও সামাজিক যে সংযোগের প্রয়োজন হয়, তাকেই রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
মহামেডানকে নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা: রাজনৈতিক দর্শন যাই হোক না কেন, ক্লাবের উন্নতিই এখন তাঁর পাখির চোখ। তিনি জানিয়েছেন:
পরিকাঠামো উন্নয়ন: ক্লাবের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে নতুন করে পরিকাঠামো সাজানো হবে।
সমন্বয়: সমস্ত সদস্য ও সমর্থকদের নিয়ে একটি একীভূত পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ফুটবলীয় সাফল্য: আই-লিগ বা আইএসএল-এর মতো মঞ্চে মহামেডানকে আরও শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে তোলা।
রাজনীতি বনাম উন্নয়ন: হুমায়ুন কবীরের এই বার্তা কি ক্লাবের অন্দরে কোনো নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে, নাকি উন্নয়নের স্বার্থে সবাই একজোট হবে? সময় বলবে, তবে তাঁর এই স্পষ্টবাদিতা যে ময়দানের অনেক দীর্ঘদিনের লুকোনো সত্যকে সামনে এনে দিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।





