কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় কাঁপছে রাজনীতি! এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝড়ে কাঠগড়ায় আপ সরকার

নিট (NEET) কেলেঙ্কারি এবং টানা এক মাসের তীব্র ছাত্র আন্দোলনের জেরে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রলহাদ জোশী। কেন্দ্রের এই পালাবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দেশের রাজনৈতিক পারদ চড়েছে আম আদমি পার্টি (AAP) শাসিত পাঞ্জাবের দিকে। একের পর এক নিয়োগ ও সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মারাত্মক অভিযোগ তুলে আপ সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিজেপি ও কংগ্রেস। বিরোধীদের প্রবল চাপের মুখে পড়ে পাল্টা মুখ খুলেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান।
উত্তপ্ত রাজনীতি ও বিরোধীদের তোপ
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়ার পরেই বিজেপি ও কংগ্রেস যৌথভাবে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজোৎ সিং বৈন্সের পদত্যাগের দাবি তুলেছে।
বিজেপির আক্রমণ: বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডলে তোপ দেগে লিখেছেন, “পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজোৎ সিং বৈন্স কবে পদত্যাগ করছেন? অরবিন্দ কেজরিওয়াল নৈতিকতার খাতিরে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চাইবেন কবে?” পদ্ম শিবিরের অভিযোগ, আপ সরকারের আমলে পাঞ্জাব স্কুল শিক্ষা বোর্ডের (PSEB) দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা, PSTET এবং ADO-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পাশাপাশি ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহার করে নায়েব তহশিলদার নিয়োগে বড়সড় অনিয়ম এবং আবগারি ও কর পরিদর্শক পদের মেধা তালিকায় ভুয়ো নাম ঢোকানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছে তারা।
কংগ্রেসের হুংকার: পিছিয়ে নেই কংগ্রেসও। পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, “বিগত চার বছরে ছ’টি বড় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। অজস্র ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছে, অথচ সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই!”
কী সাফাই দিল আপ সরকার?
বিরোধী দলগুলির এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, ‘ভুয়ো খবর’ ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল আম আদমি পার্টি। সমস্ত বিতর্ক উড়িয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর জমানায় যুব সমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত।
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান পাঞ্জাবের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, “বিগত সাড়ে চার বছরে পঞ্জাবে একটিও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। এখানে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া অসম্ভব, এটি আমার গ্যারান্টি। হ্যাঁ, দু’টি জায়গায় সামান্য টোকাটুকির চেষ্টা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। খবর পাওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা কঠোর পদক্ষেপ করেছি এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
কেন্দ্রের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পাঞ্জাবের এই নতুন নিয়োগ বিতর্ক আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।