অন্ধকারে ডুবতে পারে ইন্টারনেট দুনিয়া! হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের জেরে সমুদ্রতলের কেবলে বিপদের ছায়া

ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ আজ তৃতীয় সপ্তাহে পা দিল। হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের যে আগুন জ্বলছে, তা কেবল বিশ্ব অর্থনীতি বা জ্বালানি সরবরাহে টান ধরিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, এবার তার থাবা বসাতে চলেছে আমাদের নিত্যদিনের ইন্টারনেট সংযোগেও। সমুদ্রের তলায় বিছানো হাজার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ফাইবার-অপ্টিক কেবল এখন মাইন বিস্ফোরণ ও যুদ্ধের প্রত্যক্ষ নিশানায়।

হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে চলে গিয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবল নেটওয়ার্ক। এই কেবলগুলিই ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকাকে ডিজিটাল সুতোয় বেঁধে রেখেছে।

বিপুল ডেটা আদান-প্রদান: আমরা যেসব ই-মেইল পাঠাই, ভিডিও কল করি বা যে এআই (AI) পরিষেবা ব্যবহার করি, তার সিংহভাগ ডেটা এই লাইনের মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়।

ব্যাঙ্কিং ও তথ্য প্রযুক্তি: আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং লেনদেন এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলোর ডেটা সেন্টারের জন্য এই রুটটি অপরিহার্য।

মেরামত কি অসম্ভব?
যুদ্ধের দ্বিতীয় ধাপে ইরান যেভাবে হরমুজ প্রণালীর সমুদ্রগর্ভে মাইন পেতে রেখেছে, তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

বিস্ফোরণের ঝুঁকি: কোনো কারণে কেবল ছিঁড়ে গেলে বা নষ্ট হলে, তা মেরামত করার জন্য যে জাহাজ বা কর্মীদের প্রয়োজন, তাঁরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যেতে পারছেন না।

ভুল পদক্ষেপে সর্বনাশ: একটু এদিক-সেদিক হলেই মাইন বিস্ফোরণ ঘটে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে কেবলগুলি অকেজো হয়ে থাকলেও তা ঠিক করার কোনো উপায় থাকছে না।

আমাজন ও মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টরা মধ্যপ্রাচ্যে যে বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি করেছে, তা ভারতের ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সঙ্গেও যুক্ত। যদি তেহরান এই কেবল রুটগুলি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তবে ভারতেও ইন্টারনেট পরিষেবা ধীরগতি বা সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

ইন্টারনেটের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় স্তব্ধ। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে প্রতিটি দেশের মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।