‘অনশনের ইতি, এবার জবাবদিহির পালা!’-অনশন ভেঙে বড় বার্তা দিলেন সোনম ওয়াংচুক

দীর্ঘ ২৬ দিন ধরে চলা অনিল-অবরোধ ও ঐতিহাসিক লড়াইয়ের অবশেষে অবসান ঘটিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রের লিখিত আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। এর পর শুক্রবার সকালে মেদান্তা হাসপাতালের শয্যা থেকেই দেশবাসীর উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন তিনি। সেখানে সোনম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অনশনের সমাপ্তি ঘটলেও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লড়াই শেষ হয়নি।
ভিডিও বার্তায় কী বললেন সোনম ওয়াংচুক?
হাসপাতালের শয্যা থেকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে অনশনের জেরে সোনমকে শারীরিক দিক থেকে যথেষ্ট দুর্বল দেখা গেলেও তাঁর মনোবল ছিল অটুট। তিনি জানান, সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৬৫ জন সাংসদের অনুরোধ ও আশ্বাসের পরই তিনি অনশন প্রত্যাহারের কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোনম তাঁর বার্তায় বলেন, “অনশনের ইতি… এবার জবাবদিহির পালা।” তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যে লিখিত ও মৌখিক আশ্বাসগুলি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি আগামী দিনে বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। দেশের যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার এই লড়াই আগামী দিনেও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক উপায়ে জারি থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কেন্দ্রের কাছ থেকে কী কী প্রধান আশ্বাস মিলেছে?
সোনমের দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রের শীর্ষস্তর থেকে যে বিষয়গুলিতে গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে:
মামলা প্রত্যাহার: নিট (NEET) ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তর সহ বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আইনি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
ক্ষতিপূরণ: সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের জেরে মানসিক অবসাদে যে সমস্ত পরীক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
সংসদে আলোচনা ও সংস্কার: পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার এবং সামগ্রিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবিগুলি সংসদের আগামী অধিবেশনে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে উত্থাপিত হবে।
‘অনশন শেষ, আন্দোলন নয়’: সিজিপি (CJP)
সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করলেও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) তাদের আন্দোলন থেকে পিছু হঠছে না। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সোনমের সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে তাঁরা স্বস্তি পেলেও আন্দোলন থামছে না। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবেই। তাঁদের মতে, কেবল আইনি প্রতিশ্রুতি বা ফাস্টট্র্যাক কোর্টের ঘোষণা যথেষ্ট নয়; সরাসরি রাজনৈতিক জবাবদিহি ও মন্ত্রীর পদত্যাগ সুনিশ্চিত করতে হবে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার বেলা সাড়ে বারোটায় দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্র ও CJP-র প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখান থেকে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট সমাধানের কোনো নতুন রূপরেখা উঠে আসে কিনা, এখন সেদিকেই নজর সকলের।