প্রশ্নপত্র ফাঁসে এবার আরও কড়া আইন! মন্ত্রিসভার বৈঠকে আসছে যুগান্তকারী সংশোধনীর প্রস্তাব?

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সর্বভারতীয় পরীক্ষার জালিয়াতি চিরতরে নির্মূল করতে বর্তমানে চালু থাকা জালিয়াতি-বিরোধী আইন আরও অনেক বেশি কঠোর করার ঐতিহাসিক প্রস্তুতি শুরু করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও বার্তা জাতির উদ্দেশ্যে প্রচারিত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই কড়া পদক্ষেপের খবর সামনে চলে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে যে, সরকার এবার ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’ বা বহুল আলোচিত পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত অসাধু উপায় প্রতিরোধ আইনে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী সংশোধনী আনার চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আজকের বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সমস্ত প্রস্তাবিত কড়া সংশোধনীগুলোর ওপর সরকারিভাবে অনুমোদন সিলমোহর পড়তে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক নীতিগত ঘোষণার সঙ্গে পুরোপুরি তাল মিলিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো স্পর্শকাতর অপরাধগুলোর অতি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের কঠোর বিধানও এবার এই নতুন আইনে যুক্ত করা হতে পারে বলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই নতুন ও সংশোধিত প্রস্তাবিত বিধানগুলোর ফলে দোষীদের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার শর্তাবলী আরও বহুগুণ কঠোর করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান প্রচলিত আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অপরাধের গুরুত্ব বুঝে ৩ থেকে ৫ বছরের জেলের মেয়াদ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ জরিমানার সংস্থান রয়েছে।
তবে বর্তমান আইনের অধীনে কোনো সম্ভাব্য বা আসন্ন অপরাধের বিষয়ে গোপন তথ্য না জানালে বা যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রিপোর্ট না করলে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ওপর ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের জরিমানা করার বিধান রয়েছে। তাছাড়া কোনো সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১ কোটি টাকা পর্যন্ত মোটা অঙ্কের জরিমানার কঠোর বিধান বিদ্যমান। আজকের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী অনুমোদিত হওয়ার পর আগামী সোমবারই দেশের মর্যাদাপূর্ণ লোকসভায় এই বহু প্রতীক্ষিত সংশোধনী বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে প্রবল আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে বিগত দশ বছরে প্রায় ১৫০টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে কড়া বার্তা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অভিশপ্ত ঘটনার বিরুদ্ধে শুক্রবার অর্থাৎ আজই আরও কঠোর ও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দিল্লি হাইকোর্টের তরফ থেকে এ ধরনের সংবেদনশীল মামলার দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা করা মাত্রই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এই ঐতিহাসিক বার্তাটি শেয়ার করেছিলেন। একদিনের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই জোরালো বার্তা দেশের ছাত্রসমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।
ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, “বন্ধুরা, আমি খুব ভালোভাবেই জানি যে প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ অপরাধমূলক ঘটনা নয়। এটি দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী পড়ুয়া এবং তাঁদের স্বপ্নদ্রষ্টা পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। তাই গত আড়াই মাসে আমরা বহু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। অপরাধীদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমাদের সবথেকে প্রধান ও পবিত্র দায়িত্ব ছিল এটি নিশ্চিত করা যাতে কোনো শিক্ষার্থীর একটি শিক্ষাবর্ষও নষ্ট না হয়। তাই দ্রুত পরীক্ষা আয়োজন করাটা সরকারের কাছে অত্যন্ত জরুরি ছিল। অন্তত ২২ লাখ শিক্ষার্থীর নির্বিঘ্ন পরীক্ষার আয়োজন করতে সরকার তার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।” ভিডিও বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী হিন্দিতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের অধিবেশনে এই বিল পাস করানো হবে।