ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ মুহূর্তেই বজ্রপাত! কোন অভিযোগে এই বিশাল শুল্ক আরোপ করল আমেরিকা?

আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারতের ওপর নতুন করে কঠোর আমদানি শুল্ক (America Tariff) চাপানোর ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের (America Tariff on India) নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর করা হয়েছে। ভারত-সহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর এই অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে। আমেরিকার মূল অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দেশগুলি জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labour) দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধ করতে পর্যাপ্ত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সেই কারণেই মার্কিন বাজারে এই অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা বইতে হবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে সমস্ত দেশে জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নেই, যেমন চিন, ব্রিটেন ও জাপান, সেই দেশগুলির ক্ষেত্রে ১২.৫ শতাংশ হারে শুল্ক বসানো হবে। অন্যদিকে, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলিতে এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। সেই কারণেই ভারত-সহ একাধিক নির্দিষ্ট দেশে ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মার্কিন-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি বা ইউএসএমসিএ (USMCA)-র আওতাধীন কিছু বিশেষ পণ্য এবং তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানি আমদানியை এই নতুন শুল্ক নীতির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

মার্কিন সময় অনুযায়ী শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই এই নতুন শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। ঠিক একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বে জারি করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০২৫ সালের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ ট্যারিফ বাতিল হওয়ার পরই ওই অন্তর্বর্তীকালীন শুল্ক চালু করা হয়েছিল। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই প্রসঙ্গে জোরালো মন্তব্য করে বলেন যে, প্রায় একশো বছর ধরে আমেরিকায় জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে এবং তা অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে কার্যকর করা হয়। এখন সময় এসেছে যাতে আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদাররাও একই রকম কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

ভারতের ক্ষেত্রে এই নতুন নীতির ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ ১০ শতাংশই বহাল থাকছে। ইতিপূর্বে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে কার্যকর না করার গুরুতর অভিযোগ তুলে অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর জোরালো হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে যে, ভারত, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো-সহ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করেছে অথবা সেই মর্মে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। সেই ইতিবাচক দিকটি বিচার করেই ভারতের ওপর ১২.৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ শুল্কই বহাল রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন আরও এক দফায় নতুন ও কঠোর শুল্ক ঘোষণা করতে পারে। সেই সম্ভাব্য শুল্ক মূলত সেই সমস্ত দেশের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে যারা অতিরিক্ত উৎপাদনে সরকারি ভর্তুকি দিয়ে বিশ্ববাজারে অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য রফতানি করে থাকে। মার্কিন প্রশাসনের জোরদার দাবি, এর ফলে আমেরিকার নিজস্ব শিল্প সংস্থাগুলি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় মারাত্মকভাবে মার খাচ্ছে এবং পিছিয়ে পড়ছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty