৩৯টি স্থায়ী পদের মধ্যে ১৫টিই খালি! কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়া ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির অন্দরে চলছেটা কী?

দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলি পরিচালনা করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ (NTA)। অথচ সেই সংস্থাতেই স্থায়ী পদের অর্ধেকেরও বেশি আসন দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে। রাজ্যসভায় পেশ করা সরকারের একটি সাম্প্রতিক লিখিত প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা দেশের শিক্ষা মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজ্যসভায় পেশ করা তথ্যানুযায়ী, এনটিএ-র মোট অনুমোদিত ৩৯টি স্থায়ী পদের মধ্যে বর্তমানে ১৫টি পদই সম্পূর্ণ ফাঁকা রয়েছে এবং কার্যকরভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য মাত্র ২৪ জন স্থায়ী কর্মী কর্মরত রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্যসভায় জানানো হয়েছে যে, এনটিএ মূলত স্থায়ী কর্মী, চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং বিভিন্ন আউটসোর্সড এজেন্সির কর্মীদের ওপর নির্ভর করে তাদের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। মন্ত্রকের পেশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এনটিএ-র কাঠামোতে ৩৯টি স্থায়ী পদের সমস্তটাই ডেপুটেশনের মাধ্যমে পূরণ করার নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২৪ জন স্থায়ী কর্মী দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এই চরম কর্মী সংকট কাটাতে এবং সংস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ১৬টি নতুন পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আটটি পদ ডিরেক্টর বা অধিকর্তা স্তরে এবং বাকি আটটি পদ জয়েন্ট ডিরেক্টর বা যুগ্ম অধিকর্তা স্তরে তৈরি করা হবে। এই বিশেষ ১৬টি পদ ‘সেন্ট্রাল স্টাফিং স্কিম’-এর আওতায় ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে কর্মরত স্থায়ী কর্মীদের তালিকায় রয়েছেন একজন ডিরেক্টর জেনারেল, দু’জন জয়েন্ট সেক্রেটারি, একজন ডিরেক্টর (লেভেল ১৪), সাতজন ডিরেক্টর (লেভেল ১৩), ছয়জন জয়েন্ট ডিরেক্টর, তিনজন ডেপুটি ডিরেক্টর, দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এবং দু’জন সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট। স্থায়ী পদের এই খরা কাটাতে এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে এনটিএ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৭৩ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করেছে। এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন একজন জেনারেল ম্যানেজার (কমিউনিকেশন), একজন সিনিয়র অ্যাডভাইজার, তিনজন অ্যাডভাইজার, পাঁচজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ৪৪ জন কনসালট্যান্ট, একজন সিনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপার, একজন অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ১৭ জন তরুণ পেশাদার বা ‘ইয়াং প্রফেশনাল’।

শুধু তাই নয়, পরীক্ষার লজিস্টিকস এবং প্রযুক্তিগত দিক সামলাতে সংস্থাটি বিভিন্ন বেসরকারি ও বাহ্যিক এজেন্সির মাধ্যমে ১২৪ জন কর্মীকে আউটসোর্স করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেটা অ্যানালিস্ট, কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, লিগ্যাল অ্যাসোসিয়েট এবং হাউসকিপিং কর্মীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি। পাশাপাশি, পরীক্ষার সময় নির্দিষ্ট প্রয়োজনের ভিত্তিতে দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ নিচুতলার কর্মী, পর্যবেক্ষক, সিটি কো-অর্ডিনেটর এবং কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়কদের সাময়িকভাবে মোতায়েন করা হয়।