পরকীয়ার প্রতিবাদ করতেই মর্মান্তিক পরিণতি! শ্বশুরবাড়িতে চরম নিগ্রহের শিকার হয়ে আত্মঘাতী জামাই?

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট এলাকার মালঞ্চা আশ্রমপাড়া থেকে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করার জেরে শ্বশুরবাড়িতে চরম নিগ্রহের শিকার হয়ে এক যুবকের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত ওই যুবকের নাম গোপাল মাহাতো (৩১)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে তিনি চিঙ্গিশপুর গ্রামের এক যুবতীকে বিবাহ করেছিলেন। তাঁদের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক গোপাল সম্প্রতি মালদহের একটি হোটেলে কাজ শুরু করেছিলেন। অভিযোগ, সেই সময়ে তাঁর স্ত্রী মাঝেমধ্যেই সেখানে গিয়ে থাকতেন এবং সম্প্রতি এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। স্বামীর সামনেই ওই যুবকের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলা কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে প্রায়শই অশান্তি শুরু হয়েছিল।

পরিবারের দাবি, স্ত্রীর এই পরকীয়া সম্পর্কের তীব্র প্রতিবাদ করায় দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছায়। এরপর অশান্তির জেরে স্ত্রী বাপের বাড়িতে চলে যান। গত ১৭ জুলাই স্ত্রীকে বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন গোপাল। কিন্তু অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পরই স্ত্রী এবং শাশুড়ি মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। অপমানিত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বাড়ি ফিরে ওই দিনই গোপাল কীটনাশক পান করেন।

পরিবারের লোকজন তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই গোপাল তাঁর আত্মীয়দের কাছে শ্বশুরবাড়িতে মারধরের সমস্ত বিবরণ জানান এবং স্ত্রীর পরকীয়ার কথা স্পষ্ট উল্লেখ করেন। আত্মীয়রা সেই চাঞ্চল্যকর বক্তব্য মোবাইলে রেকর্ড করে রাখেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর মৃত যুবকের পরিবার বালুরঘাট থানার দ্বারস্থ হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার স্ত্রী, শাশুড়ি, শ্বশুর এবং স্ত্রীর কথিত প্রেমিকসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty