হেলিকপ্টারের পর এবার কি গাড়ি? অভিষেক-রুজিরার কনভয়ে তল্লাশির আশঙ্কায় ফুঁসছে তৃণমূল, মুখ খুলল কমিশন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে শাসকদল তৃণমূল এবং নির্বাচন কমিশনের সংঘাত এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েকদিন আগেই বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টারে আয়কর তল্লাশি নিয়ে সরব হয়েছিল জোড়াফুল শিবির। এবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ও সুরক্ষা কনভয়ের গাড়িতেও তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তৃণমূলের বিস্ফোরক দাবি: তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, বিরোধী নেতাদের হেনস্থা করতেই কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের গতি রোধ করতে এবং ভীতি প্রদর্শন করতেই এই ‘সারপ্রাইজ সার্চ’-এর ছক কষা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য:

“হেলিকপ্টারে তল্লাশি করে কিছুই মেলেনি, এবার কি রাস্তার গাড়িতে তল্লাশি করে সময় নষ্ট করার পরিকল্পনা চলছে? এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়।”

কমিশনের সাফ জবাব: তৃণমূলের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের (ECI) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আইন এবং নির্বাচনী বিধি (MCC) সবার জন্যই সমান। কমিশনের দাবি:

  • নিরপেক্ষ নজরদারি: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে যে কোনো সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানোর অধিকার ফ্লাইং স্কোয়াড এবং স্ট্যাটিক সারভেইল্যান্স টিমের রয়েছে।

  • বিদ্বেষের অভিযোগ নাকচ: কোনো নির্দিষ্ট নেতা বা ব্যক্তিকে টার্গেট করে নয়, বরং নিয়মমাফিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

  • স্বচ্ছতা: প্রতিটি তল্লাশির ভিডিওগ্রাফি করা হয় যাতে কোনো পক্ষের প্রতি অবিচার না হয়।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: বিজেপি এই ইস্যুতে তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়েনি। তাদের দাবি, “চোর না হলে বুক কাঁপছে কেন?” শুভেন্দু অধিকারীর মতো বিজেপি নেতাদের পাল্টা বক্তব্য, নির্বাচনী বিধি মেনে সবার গাড়িতেই তল্লাশি হওয়া উচিত, তা তিনি মুখ্যমন্ত্রী হোন বা সাংসদ।

পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: হেলিকপ্টার থেকে গাড়ি— তল্লাশি ঘিরে এই টানাপোড়েন আসলে তৃণমূলের ‘নিগৃহীত’ হওয়ার কার্ড খেলার সুযোগ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, কমিশন নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগে অবিচল। এই ঠান্ডা লড়াই ২০২৬-এর ভোটের উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy