ভাঙড়ের রণক্ষেত্রে লাঠি-সোটা আর বোমাবাজির খবর নতুন নয়। কিন্তু রাজনীতির সেই চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে যখন এক দাপুটে তৃণমূল নেতার গাড়ি গিয়ে দাঁড়ায় বিজেপি নেতার দোরগোড়ায়, তখন জল্পনা শুরু হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভাঙড়ের ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা এলাকার দাপুটে নেতা শওকত মোল্লা এবং বিজেপির স্থানীয় নেতার এই ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ ঘিরেই এখন সরগরম দক্ষিণ ২৪ পরগণা।
কী ঘটেছিল ভাঙড়ে? সূত্রের খবর, সম্প্রতি কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই স্থানীয় এক বিজেপি নেতার বাড়িতে উপস্থিত হন শওকত মোল্লা। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে তাঁদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। যদিও শওকত মোল্লার দাবি, এটি একটি নিছকই ব্যক্তিগত এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভাঙড়ের মাটিতে যেখানে তৃণমূল এবং বিজেপির কর্মীরা একে অপরের ছায়া মাড়াতে নারাজ, সেখানে শীর্ষ স্তরের এই মেলামেশার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো সমীকরণ।
নওশাদের ‘সেটিং’ খোঁচা: এই সাক্ষাৎ প্রকাশ্যে আসতেই সুর চড়িয়েছেন ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি একে ‘গোপন ডিল’ বা ‘সেটিং’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। নওশাদের দাবি:
“মানুষকে বোকা বানাতে প্রকাশ্যে এরা ঝগড়া করে, আর ঘরের ভেতরে সেটিং করে আইএসএফ-কে আটকানোর ছক কষছে। তৃণমূল এবং বিজেপি যে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, এই সাক্ষাৎ তারই প্রমাণ।”
পাল্টা সাফাই দুই শিবিরের: তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক অনুষ্ঠানে বা বিপদে মানুষের বাড়ি যাওয়া সৌজন্যের অংশ। এর মধ্যে রাজনীতির রং খোঁজা বৃথা। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো দলীয় বৈঠক নয়, ব্যক্তিগত স্তরের আলাপচারিতা মাত্র।
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: ভাঙড়ের রাজনীতিতে আইএসএফ একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠার পর থেকেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মেরুকরণের চেষ্টা দেখা গিয়েছে। এখন এই ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ কি নওশাদকে চাপে রাখার কোনো কৌশল, নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো নির্বাচনী অঙ্ক— তা সময়ই বলবে।





