পরকীয়া সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্বামী, আর সেই ‘কাঁটা’ সরাতেই নৃশংস খুনের ছক কষলেন স্ত্রী। ওড়িশার জাজপুরে মাংস ব্যবসায়ী সৌম্য সাগর সামাল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শুভশ্রী বেহেরা ওরফে সীমা সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জাজপুর জেলা পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। জাজপুরের গড়িয়াপুর চকে সৌম্যর একটি মাংসের দোকান ছিল। গত ৪ এপ্রিল রাতে দোকান বন্ধ করে যখন তিনি কালিমেঘায় নিজের ভাড়া বাড়িতে ফিরছিলেন, তখনই ঘটে সেই ভয়াবহ ঘটনা। অন্ধকার রাস্তায় বাইকে চড়ে আসা দুই দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সৌম্য। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে জাজপুর জেলা সদর হাসপাতালে ও পরে কটকের এসসিবি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
জাজপুরের পুলিশ সুপার যশপ্রতাপ শ্রীমল জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে তিনটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে নিহতের স্ত্রী শুভশ্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা। জানা গিয়েছে, বিয়ের আগে থেকেই প্রীতি প্রভা নামে এক মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল শুভশ্রীর। সেই সূত্রেই প্রীতির দাদা তাপস কুমার খিলারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৮ মাস আগে সৌম্যর সঙ্গে শুভশ্রীর বিয়ে হলেও তাপসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। এমনকি স্বামীর অলক্ষ্যে তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেও যেতেন।
সম্প্রতি এই সম্পর্কের কথা জেনে ফেলেন সৌম্য। তিনি এর তীব্র বিরোধিতা করেন এবং শুভশ্রীকে সতর্ক করেন। ঘটনার দিন কয়েক আগে তাপসের সঙ্গে সৌম্যর ব্যাপক কথা কাটাকাটি হয় এবং তাপস তাঁকে খুনের হুমকি দেয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তাপস রাউরকেল্লায় গাড়ি চালক হিসেবে কাজ করত। সে শুভশ্রীকে ডিভোর্সের জন্য চাপ দিচ্ছিল, কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় খুনের পরিকল্পনা করা হয়। বোন প্রীতির কাছ থেকে ৪৯ হাজার টাকা নিয়ে একটি পিস্তল কেনে তাপস এবং সুযোগ বুঝে সৌম্যকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশ অভিযুক্ত তাপসকে রাউরকেল্লা থেকে এবং বাকিদের বিভিন্ন গোপন আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে শুভশ্রী, তাঁর প্রেমিক তাপস এবং তাপসের বোনও রয়েছে। এই ঘটনায় পরকীয়ার পাশাপাশি পারিবারিক অশান্তির এক অন্ধকার দিক ফুটে উঠেছে যা গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।





