পেট্রোল ও ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের মাঝেই বড় খবর শোনাল কেন্দ্রীয় সরকার। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে সমস্ত রাজ্যে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (E20) বিক্রি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এই পদক্ষেপ ভারতের জ্বালানি নীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইথানল পরিকল্পনা ও পেট্রোলের দামের রসায়ন
সরকারের লক্ষ্য হলো অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা। ইথানল মূলত আখ, ভুট্টা এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া শস্য থেকে তৈরি হয়, যা ভারতের কৃষকরা দেশেই উৎপাদন করেন। সরকারের দাবি:
আমদানি হ্রাস: ইথানল মিশ্রণের ফলে গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে।
দাম কমার সম্ভাবনা: ইথানল পেট্রোলের তুলনায় সস্তা। তাই ২০% ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল দীর্ঘমেয়াদে বাজারের পেট্রোলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
পরিবেশবান্ধব: এই জ্বালানি ব্যবহারে কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, যা পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক।
RON 95: নতুন গুণমান ও ইঞ্জিনের সুরক্ষা
সরকার জানিয়েছে, ১ এপ্রিল থেকে বিক্রি হওয়া পেট্রোলের রিসার্চ অক্টেন নম্বর (RON) ন্যূনতম ৯৫ হতে হবে। এটি জ্বালানির গুণমান নিশ্চিত করে এবং ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে আধুনিক ইঞ্জিনগুলো এই উচ্চমানের জ্বালানিতে অনেক বেশি মসৃণভাবে চলবে।
গাড়ির ওপর কী প্রভাব পড়বে?
নতুন গাড়ি: ২০২৩ সালের পর বাজারে আসা বেশিরভাগ গাড়ি এবং বাইক E20 জ্বালানির উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
পুরানো গাড়ি: খুব পুরনো ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে কিছুটা যত্নের প্রয়োজন হতে পারে, তবে আধুনিক গুণমানের (RON 95) কারণে বড় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: ১০০০% স্বনির্ভরতা?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে ভারত ১০০ শতাংশ ইথানল চালিত বা ফ্লেক্স-ফুয়েল (Flex-Fuel) গাড়ির দিকে এগোতে চায়। এটি সম্ভব হলে পেট্রোলের দামে বড়সড় পতন আসতে পারে এবং জ্বালানি সংকটের পাকাপাকি সমাধান হতে পারে।
নির্বাচনী আবহে সরকারের এই জ্বালানি নীতি কেবল অর্থনীতির মোড় ঘোরাবে না, বরং সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা স্বস্তি দেবে, সেটাই এখন দেখার।





