আইপ্যাক (I-PAC) মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি পিকে মিশ্র ও এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, একজন ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের আচরণ দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে তুলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত কী নিয়ে? গত জানুয়ারি মাসে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর প্রধান প্রতীক জৈনের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। অভিযোগ ওঠে, সেই তল্লাশি চলাকালীনই সেখানে সশরীরে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, ইডির কাজে বাধা দিয়ে সেখান থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র সরিয়ে নিয়ে আসেন তিনি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই শীর্ষ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ এদিন শুনানির সময় রাজ্যের আইনজীবীরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুললেও আদালত তা মানতে নারাজ। সুপ্রিম কোর্ট কড়া ভাষায় জানায়:
“এটি কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যকার সাধারণ কোনো বিবাদ নয়। কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একটি তদন্তের মাঝখানে ঢুকে গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে পারেন না।”
বিচারপতিরা আরও যোগ করেন, “সংবিধান প্রণেতারা বা ড. বি আর আম্বেদকর হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে, এই দেশে একদিন একজন ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত চলাকালীন কোনো অফিসে ঢুকে পড়বেন।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য তৃণমূল শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তিকর বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজ্যের দাবি ছিল, নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে দুর্বল করতেই ইডি এই সক্রিয়তা দেখাচ্ছে। কিন্তু আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তদন্তের প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম দফা নির্বাচনের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টের এই ‘গণতন্ত্র বিপন্ন’ হওয়ার মন্তব্য যে বিরোধী শিবিরের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।





