“৪ তারিখের পর তোমার দেখা নাইরে তোমার দেখা নাই!”— দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের নির্বাচনী সভা থেকে সুর চড়িয়ে এই ভাষাতেই বিজেপিকে বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার জয়নগর ও মন্দিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের জোড়াফুল প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত সভায় অভিষেক সাফ জানিয়ে দেন, আগামী ১২ দিন পর বাংলায় গেরুয়া শিবিরকে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না।
বিজেপিকে ‘বলো হরি হরি বোল’ করার ডাক ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ এদিন রীতিমতো আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন। জনসভা থেকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, “বিজেপিকে গণতান্ত্রিকভাবে হাত-পা ভেঙে ‘বলো হরি হরি বোল’ করতে হবে। ২৯ তারিখে বহিরাগতদের লেজেগোবরে করব।” তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতবারের ৭৭ আসনেই আটকে যাবেন এবং অমিত শাহের দৌড় ৫০-এর গণ্ডি পেরোবে না। বাংলার মানুষ ৪ জুন ব্যালটেই এর যোগ্য জবাব দেবে।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আক্রমণ দিল্লির সরকারকে একহাত নিয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, মোদী সরকার সাধারণ মানুষকে লুটে খাচ্ছে এবং বাংলার গরিব মানুষের টাকা গুজরাটে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “বিজেপি চেয়েছে আপনাদের চোখে জল আনতে, আর আমরা চেয়েছি আপনাদের মুখে হাসি ফোটাতে।” বিজেপি যখন সাধারণ মানুষকে রোদে পুড়িয়ে লাইনে দাঁড় করাচ্ছে, তৃণমূল তখন ক্ষমতায় ফিরলে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ এবং গরিবদের জন্য মাথার ওপর পাকা ছাদের ব্যবস্থা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উন্নয়নের খতিয়ান ও জয়নগরের আবেগ নিজের ‘কর্মভূমি’ দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রতি আবেগপ্রবণ হয়ে অভিষেক বলেন, ডায়মন্ড হারবারের মতোই জেলার ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রকেই তিনি আগলে রাখবেন। জয়নগরের মোয়ার জিআই ট্যাগ পাওয়া থেকে শুরু করে ‘মোয়া হাব’ তৈরি, নিমপীঠে দমকল কেন্দ্র বা হাইমাস্ট লাইট— সবটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অবদান বলে মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতে হলে ২৯ তারিখ গরমে কষ্ট হলেও বুথমুখী হয়ে জোড়াফুলেই বোতাম টিপতে হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের অন্তিম লগ্নে অভিষেকের এই ‘অলআউট অ্যাটাক’ নিচুতলার কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মনেও গভীর রেখাপাত করবে।





