আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে বুধবার আমডাঙার জনসভা থেকে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চড়া সুরে হুঙ্কার দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা দুরন্ত খেলা খেলি, আমাদের হারানো অত সহজ নয়।” আক্রমণ আর আশ্বাসের মিশেলে এদিন কার্যত ভোটের ময়দান তপ্ত করে তুললেন তৃণমূল নেত্রী।
‘বহিরাগতদের রুখুন, মায়েদের হাতে দায়িত্ব’ নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্কবার্তা দেন যে, অন্য রাজ্য থেকে ট্রেনে করে লোক এনে ভোট দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তিনি বলেন, “রাজস্থান-বিহার থেকে ট্রেনে করে এসে ভোট দেবে? এবার আটকে রাখবেন। মায়েদের দায়িত্ব দিলাম, একদম পালাতে দেবেন না। যারা ফলস ভোট দিয়ে পালানোর চেষ্টা করবে, তাদের রুখে দিন।”
ভোটার লিস্ট ও ইভিএম নিয়ে সতর্কতা যাদের আগামীকাল ভোট রয়েছে, তাদের বিশেষ পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাপ্লিমেন্টারি লিস্টটা একবার দেখে নিন। রিটার্নিং অফিসারের থেকে তালিকা চেয়ে নিন। যাদের জেনুইন নাম কেটে দেওয়া হয়েছে, চিন্তা করবেন না, আমি সবার নাম ফের তুলে দেব।” পাশাপাশি ইভিএম মেশিন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইভিএম ইচ্ছা করে খারাপ করে রাখা হতে পারে বা চিপ ঢুকিয়ে রাখা হতে পারে। লাইন দীর্ঘ হলেও ধৈর্য ধরবেন, নতুন মেশিনে ভোট দিয়ে তবেই ফিরবেন।”
সরকারি কর্মীদের ডিএ ও কমিশনের ভূমিকা এদিন সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন মমতা। তিনি জানান, বাজেটে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “আমাকে না জানিয়েই ফিন্যান্স সেক্রেটারি ফাইলটি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছিলেন। আর কমিশন সেটা চেপে রেখে দিয়েছে। নয়তো অনেকদিন আগেই আপনারা প্রায় ২৫ শতাংশ মতো ডিএ পেয়ে যেতেন।” তবে কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এই মাসেই মাইনের সঙ্গে বর্ধিত টাকা পৌঁছে যাবে।
নির্বাচনী আবহে আমডাঙার এই সভা থেকে একদিকে যেমন কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা, অন্যদিকে সরকারি কর্মীদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





