আপনি কি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (Punjab National Bank) গ্রাহক? তবে আপনার জন্য রয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। ব্যাঙ্কের দেওয়া সময়সীমা (১৫ এপ্রিল) পার হয়ে যাওয়ায় ১৬ এপ্রিল থেকে বহু অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ১৮ মার্চের নির্দেশিকা মেনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কোন অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করা হচ্ছে? ব্যাঙ্ক স্পষ্ট জানিয়েছে, ঢালাওভাবে সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ হচ্ছে না। মূলত তিনটি ক্যাটাগরির অ্যাকাউন্ট এখন স্ক্যানারে: ১. নিষ্ক্রিয় লেনদেন: যাদের অ্যাকাউন্টে গত ৩ বছর ধরে কোনো লেনদেন হয়নি। ২. শূন্য ব্যালেন্স: যেসব অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই (Zero Balance)। ৩. পুরনো KYC: যাদের ‘নো ইওর কাস্টমার’ (KYC) বিবরণ অনেক পুরনো বা আপডেট করা নেই।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের মতে, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলি প্রতারকদের সহজ টার্গেট হয়ে দাঁড়ায়। জালিয়াতরা অনেক সময় এই ধরনের অ্যাকাউন্টে বেআইনি ফান্ড পাঠিয়ে দেয়। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে জালিয়াতি মুক্ত রাখতেই এই ‘অ্যাকাউন্ট ক্লিন আপ’ বা পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত।
বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্ট কি আবার খোলা যাবে? রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট ক্লোজ হয়ে গেলেও তা পুনরায় সক্রিয় করার একটি সুযোগ থাকতে পারে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে আপনাকে যা যা করতে হবে:
ব্যাঙ্কে সশরীরে হাজিরা: আপনাকে আপনার নিকটবর্তী পিএনবি ব্রাঞ্চে যেতে হবে।
নথিপত্র জমা: আপনার পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে প্যান কার্ড, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট বা আধার কার্ডের মতো বৈধ নথিপত্র এবং পাসবুক সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।
অনলাইন পদ্ধতি: আপনি চাইলে PNB One মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও কেওয়াইসি (KYC) আপডেটের চেষ্টা করতে পারেন। সেখানে ওটিপি (OTP) যাচাইকরণের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস চেক করা সম্ভব।
মনে রাখবেন: যাদের অ্যাকাউন্ট ২ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ, তাদের ক্ষেত্রে ‘ডেবিট ফ্রিজ’ করা হয়েছে। অর্থাৎ, টাকা থাকলেও তা তোলা সম্ভব নয়। পূর্ণাঙ্গ লেনদেনের সুবিধা পেতে দ্রুত ব্যাঙ্কের সাথে যোগাযোগ করে কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন করিয়ে নেওয়া জরুরি।





