রাজনীতির ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই নিত্যনতুন চমক। এবার সরাসরি বিজেপির অন্দরের ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে মুখ খুলে শোরগোল ফেলে দিলেন তৃণমূল নেত্রী। টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে মমতা দাবি করেছেন, নরেন্দ্র মোদীর পর বিজেপিতে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার এবং মোদী-শাহদের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
বিজেপির অন্দরে ‘যোগী ফ্যাক্টর’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, যোগী আদিত্যনাথ এখন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “ওরা যোগী ফ্যাক্টর নিয়ে বেজায় চিন্তিত। যোগীকে ভয় পায় বলেই এখন তাঁকে টাইট দিতে উত্তরপ্রদেশকে টুকরো টুকরো করার ছক চলছে। আর সেই কারণেই হয়তো সারা দেশকে টুকরো করার রাজনীতি শুরু হয়েছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে মমতা বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিজেপির অন্দরে পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে এক তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তোপ: যোগী আদিত্যনাথকে প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে রাখলেও, তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা। উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে দাবি করে তিনি বলেন, সেখানে নারী নিরাপত্তা তলানিতে এবং অপরাধের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, যোগী বা বিজেপির কোনো নেতার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক নেই; সূত্র মারফতই তিনি এই অভ্যন্তরীণ খবর পেয়েছেন।
‘বুলডোজার নীতি’ বনাম বাংলা: কিছুদিন আগেই বাংলায় প্রচারে এসে যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের আদলে ‘বুলডোজার শাসন’ চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা জানান, উত্তরপ্রদেশে মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙতে বা বিভেদ করতে বুলডোজার চালানো হয়। কিন্তু বাংলায় সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বাস করেন, তাই যোগীর এই ‘বুলডোজার নীতি’ এখানে কোনোভাবেই কাজ করবে না।
ভোটের মুখে মমতার এই ‘যোগী-তত্ত্ব’ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন কোনো বিতর্কের জন্ম দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।





