মোদী সরকারের বড় ধাক্কা! লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়ল ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল, পাশে নেই নবীনও

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল কেন্দ্র। প্রবল আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত লোকসভায় পাস করানো গেল না বহুল চর্চিত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণকে কার্যকর করার লক্ষ্যে আনা এই বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আপাতত বিশ বাঁও জলে। সরকারের এই পরাজয়কে ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসে মোদী জমানার অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভোটের হিসেবে কেন হারল কেন্দ্র?
সংবিধান সংশোধনের জন্য উপস্থিত সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন বাধ্যতামূলক। শুক্রবার ভোটাভুটির সময় ৫২৮ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। বিল পাসের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫২টি ‘হ্যাঁ’ ভোট। কিন্তু সরকারের সপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ২৯৮টি। অন্যদিকে ২৩০ জন সাংসদ বিলের বিপক্ষে ভোট দেন। অর্থাৎ মাত্র ৫৪টি ভোটের জন্য ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হলো এনডিএ (NDA) সরকার।

নবীন পট্টনায়কের ‘ডিগবাজি’ ও বিরোধীদের ঐক্য:
এবারের বিশেষ অধিবেশনে সবথেকে বড় চমক ছিল ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেডি (BJD) নেতা নবীন পট্টনায়কের অবস্থান। এতদিন বহু গুরুত্বপূর্ণ বিলে বিজেপিকে সমর্থন দিলেও, এবার আসন পুনর্বিন্যাস বিলের (Delimitation Bill) বিরোধিতায় কোমর বেঁধে নামেন তিনি। বিরোধী শিবিরের ২৩৩ জন সাংসদের সংহত শক্তি সরকারের সব হিসেব উল্টে দিল।

বাকি দুই বিলের কী হবে?
১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলের সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত ছিল আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল। সংবিধান সংশোধনীটি পাস না হওয়ায় সরকার বাকি দুটি বিল নিয়েও আর এগোনোর সাহস দেখায়নি। মূলত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্য এই বিলগুলো পাস হওয়া জরুরি ছিল। বৃহস্পতিবার ২০২৩ সালের মূল মহিলা সংরক্ষণ বিলটি আইনে পরিণত হলেও, তাকে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করার আইনি কাঠামোটিই এখন বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়ে গেল। এখন দেখার, এই সংসদীয় সংকটের মোকাবিলায় কেন্দ্র পুনরায় কোনো নতুন কৌশল আনে কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy