বিশ্ব রাজনীতিতে ভারত এখন এমন এক অবস্থানে, যাকে এড়িয়ে চলা কোনো মহাশক্তির পক্ষেই সম্ভব নয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যেকার ৪০ মিনিটের দীর্ঘ ফোনালাপ আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সূত্রের খবর, এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের জ্বলন্ত সমস্যা এবং ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া। আর এখানেই ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই জটিল জট খুলতে পাকিস্তানের মতো ‘ব্যর্থ’ রাষ্ট্রের বদলে তাঁর একমাত্র ভরসা এখন ভারত।
কেন ব্যর্থ পাকিস্তান? একসময় মধ্যপ্রাচ্য এবং আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদ বড় ভূমিকা নিলেও, বর্তমান চরম আর্থিক মন্দা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্যতাহীন করে তুলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট সামলাতে ব্যর্থ পাকিস্তানের আর সেই ক্ষমতা নেই যে তারা ইরানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো প্রভাব ফেলবে।
মোদীর দ্বারস্থ কেন ট্রাম্প?
ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক: ভারতের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। তেহরানের ওপর দিল্লির প্রভাব ওয়াশিংটনের অজানা নয়।
বিশ্বাসযোগ্যতা: মোদী এমন একজন নেতা যিনি একইসঙ্গে ইজরায়েল এবং আরব বিশ্বের দেশগুলোর সাথে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম।
৪০ মিনিটের ব্লু-প্রিন্ট: জানা গেছে, এই দীর্ঘ ফোনালাপে কেবল সৌজন্য বিনিময় হয়নি; বরং ইরান-আমেরিকা সংঘাত কমানোর জন্য মোদীর মধ্যস্থতার এক গোপন নীলনকশা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন মেরুকরণ: ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সরাসরি পাকিস্তানের গালে এক চড় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে আমেরিকা যখন ভারতের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করছে, তখন ইসলামাবাদ কার্যত কোণঠাসা। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তার চাবিকাঠি এখন একমাত্র নরেন্দ্র মোদীর হাতেই নিরাপদ।
ফল কী হতে পারে? যদি ভারত সফলভাবে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতা করতে পারে, তবে বিশ্বমঞ্চে ভারতের মর্যাদা এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ‘বিশ্ববন্ধু’ হিসেবে মোদীর এই নয়া অবতার এখন সময়ের অপেক্ষা।





