লোকসভা নির্বাচনের আবহে বাংলার তপ্ত রাজনীতিতে নতুন করে ঘি ঢাললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার তাঁর নিশানায় সরাসরি ‘বহুবিবাহ’ এবং ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ইউসিসি (UCC)। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কুলটির জনসভা থেকে শাহের স্পষ্ট বার্তা— বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলেই কার্যকর হবে এক দেশ এক আইন।
শাহের ‘চার বিয়ে’ বাণ ও বিতর্ক
এদিন মঞ্চ থেকে সরাসরি জনতাকে উদ্দেশ্য করে অমিত শাহ প্রশ্ন তোলেন, “বাংলায় বিজেপির সরকার গড়তে দিন, আমরা ইউসিসি কার্যকর করব। কেউ কেউ চার-চারটে বিয়ে করেন, আবার কেউ একটাই করেন। দিদিরা আপনারাই বলুন, কারও কি চারটে বিয়ে করা উচিত?” তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা তো জানেন কারা চারটে বিয়ে করছে? বিজেপির সরকার এই প্রথা বন্ধ করে দেবে।”
শাহের এই মন্তব্যে একদিকে যেমন গেরুয়া সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা দেখা দিয়েছে, তেমনই বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে মেরুকরণের রাজনীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপির দাবি, ইউসিসি কার্যকর হলে সব ধর্মের মানুষের জন্য বিবাহ, উত্তরাধিকার ও সম্পত্তিতে সমান আইন বলবৎ হবে, যা নারী-পুরুষের অধিকার নিশ্চিত করবে।
পালটা হুঙ্কার মমতার: “ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ”
অমিত শাহের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ইউসিসি কার্যকর করার নামে মানুষের ব্যক্তিগত ধর্মচর্চা ও সংস্কৃতির অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে বিজেপি।
তৃণমূল নেত্রী বলেন, “সংকল্প পত্রে বলেছে ইউসিসি করবে। আপনার কোনও অধিকার থাকবে না। নিজের ইচ্ছেমতো ধর্ম পালন বা সংস্কৃতি মানার অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।” মমতা আরও মনে করিয়ে দেন, ভারত একটি বহুধর্মীয় দেশ। হিন্দু, মুসলিম, আদিবাসী— প্রতিটি সম্প্রদায়ের আলাদা রীতিনীতি রয়েছে। বিজেপির এই পদক্ষেপ দেশের বৈচিত্র্যকে ধ্বংস করে দেবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনের আগে তুঙ্গে সংঘাত
বিজেপি যেখানে ইউসিসি-কে সমতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে, তৃণমূল কংগ্রেস তাকে দেখছে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে ‘বহুবিবাহ’ এবং ‘ইউসিসি’ ইস্যু তুলে অমিত শাহ হিন্দু ভোটারদের যেমন ঐক্যবদ্ধ করতে চাইছেন, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ককে সতর্ক করছেন।





