২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোল এবার মধ্যগগনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হ্যাটট্রিক’ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মরিয়া ভারতীয় জনতা পার্টি। আগামী ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। প্রথম পর্যায়ে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, দুই দিনাজপুর ও মালদহ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল ও মেদিনীপুরের মোট ১৫২টি আসনে ভাগ্য নির্ধারণ হবে প্রার্থীদের।
বিজেপির তুরুপের তাস উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল:
গেরুয়া শিবিরের কাছে প্রথম দফার সবচেয়ে বড় আশার জায়গা হলো উত্তরবঙ্গ। কোচবিহারের মাথাভাঙা আসনে লড়ছেন হেভিওয়েট নেতা নিশীথ প্রামাণিক, যাকে ঘিরেই পদ্ম শিবিরের বড় বাজি। শিলিগুড়িতে শঙ্কর ঘোষ এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে শিখা চট্টোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল অর্থাৎ বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামেও পদ্ম-হাওয়া অব্যাহত রাখতে কোমর বেঁধে নেমেছেন নীলাদ্রি শেখর দানা এবং চন্দনা বাউড়িরা। তবে নজর থাকবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে, যেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে। খড়গপুর সদরে দিলীপ ঘোষের পুনরুত্থান এবং আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পলের লড়াইও যথেষ্ট হাই-ভোল্টেজ হতে চলেছে।
সমীক্ষায় এগিয়ে কে?
নির্বাচনের আগে একাধিক জনমত জরিপে বিজেপির আসন বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে। আইএএনএস-ম্যাট্রাইজের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি ১০০ থেকে ১১৫টি আসন পেতে পারে। অন্য একটি জরিপে (VoteVibe CNN-News18) বিজেপিকে ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে যদি বিজেপি ১০০-র গণ্ডি ছুঁতে পারে, তবে নবান্ন দখলের পথে তারা কয়েক কদম এগিয়ে যাবে।
দুর্নীতি ও নিরাপত্তা প্রধান ইস্যু:
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, আরজি কর কাণ্ড এবং নারী নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে হাতিয়ার করেই প্রচার চালিয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি সিএএ (CAA) এবং মতুয়া ভোটব্যাঙ্কও গেরুয়া শিবিরের কাছে বড় ফ্যাক্টর। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে এবার ১০০ শতাংশ বুথেই ওয়েবকাস্টিং থাকছে এবং বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হলে লাভের অঙ্ক নিজেদের ঘরেই আসবে বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব।





