আজ ২২ এপ্রিল, ‘বিশ্ব ধরিত্রী দিবস’ (World Earth Day)। যখন গোটা বিশ্ব অসহনীয় তাপপ্রবাহ, হিমবাহের গলন এবং সমুদ্রের বাড়তে থাকা জলস্তর নিয়ে ত্রাহি ত্রাহি রব তুলছে, তখন এই দিনটির গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন আজ আর কেবল আলোচনার বিষয় নয়, বরং এক ভয়ংকর বাস্তব। যথেচ্ছ বন উজাড়, সমুদ্রে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিক্ষেপ এবং কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পৃথিবী আজ কার্যত এক ‘গ্যাস চেম্বারে’ পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই দিনটির মূল লক্ষ্য হলো—মানুষকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা এবং এই বিপন্ন গ্রহটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা। আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে চরম দুর্ভিক্ষ, ভয়াবহ বন্যা এবং বিধ্বংসী দাবানল মানবসভ্যতা ও পশুপাখির অস্তিত্বকে নিমেষে মুছে দিতে পারে। গত কয়েক দশকে দূষণ বিরোধী নানা আন্দোলন আমরা দেখেছি, যার প্রভাব পড়েছে আমাদের সমাজ ও মনস্তত্ত্বে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরিবেশ রক্ষার এই কঠিন সংগ্রাম কেবল রাজপথের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা সগৌরবে উঠে এসেছে সিনেমার পর্দাতেও। রূপোলি জগতের বেশ কিছু সিনেমা ও তথ্যচিত্র (Documentary) বাস্তবের পরিবেশ যোদ্ধাদের লড়াইকে সেলুলয়েডে বন্দি করেছে। ‘এরিন ব্রকোভিচ’ থেকে শুরু করে ডিক্যাপ্রিও-র ‘দ্য ইলেভেন্থ আওয়ার’—এমন অসংখ্য সৃষ্টির মাধ্যমে জনমানসে সচেতনতার বীজ বোনার চেষ্টা করা হয়েছে। যেখানে ফুটে উঠেছে কীভাবে কর্পোরেট জগতের আগ্রাসন আর দূষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন এক একজন সাধারণ মানুষ। আজকের এই বিশেষ দিনে আমাদের শপথ হোক একটাই—বৃক্ষরোপণ আর দূষণমুক্ত জীবনযাত্রার মাধ্যমে মৃত্যুপথযাত্রী এই পৃথিবীকে আবার সবুজে ভরিয়ে তোলা।





