২০২৬-এর বাংলা বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার দিল্লির রাজনীতি উত্তপ্ত। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন দেশের প্রবীণ আইনজীবী তথা দুঁদে রাজনীতিবিদ কপিল সিব্বল। দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সিব্বল কার্যত অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমানে বাংলায় এক প্রকার ‘অসাংবিধানিক জরুরি অবস্থা’ চলছে।
রাজ্যে ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রতি একশো জন মানুষের জন্য একজন করে সিএপিএফ (CAPF) জওয়ান মোতায়েন করা নজিরবিহীন এবং রহস্যজনক।” সিব্বলের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ বাহিনী ব্যবহারের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরাপত্তা দেওয়া নয়, বরং তৃণমূল সমর্থকদের ভয় দেখিয়ে ভোটদানে বাধা দেওয়া এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা। নির্বাচন কমিশনারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি একে ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেন। ৪৮৩ জন সরকারি আধিকারিককে ঢালাও বদলি করাকে তিনি ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
সিব্বল আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি নারী অধিকার নিয়ে লম্বা চওড়া ভাষণ দিলেও, বাংলার একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর সম্মানহানি করতে কেন্দ্রের সমস্ত শক্তি ও যন্ত্রকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচারের ভাষা ও ভঙ্গিমাকে আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন নারী সম্পর্কে এমন মন্তব্য কি আদৌ শোভা পায়? পাশাপাশি, শুভেন্দু অধিকারীর ‘বুলডোজার মডেল’ বা যোগী আদিত্যনাথের ধাঁচে বিরোধীদের হুমকিরও তীব্র নিন্দা করেন তিনি। সিব্বলের মতে, এই নির্বাচন এখন আর স্রেফ রাজনৈতিক লড়াই নেই, বরং তা ‘প্রতিষ্ঠান বনাম গণতন্ত্রের’ এক অসম যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।





