মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার চরম নাটকীয়তা। সোমবার থেকেই ইরানের সমস্ত বন্দর এবং উপকূলীয় অঞ্চল আক্ষরিক অর্থেই ‘অবরুদ্ধ’ করল মার্কিন নৌসেনা। এই সামরিক টানাপোড়েনের মাঝেই মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ ৪০ মিনিটের এই ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সুরক্ষিত রাখা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গভীর আলোচনা হয়েছে।
কেন এই বন্দর অবরোধ? ইসলামাবাদে আয়োজিত আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা কোনো রফাসূত্র ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ার পরেই ট্রাম্প এই কড়া পদক্ষেপ নেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে:
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়াতে তাদের উপকূলজুড়ে জলপথ বন্ধ করা হয়েছে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “অবরোধ এলাকায় কোনো ইরানি জাহাজ দেখলেই তা ধ্বংস করা হবে।”
উদ্দেশ্য হলো— ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানো এবং তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা।
মোদী-ট্রাম্প ফোনালাপের ভেতরের কথা: মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর জানিয়েছেন, ট্রাম্প অত্যন্ত ব্যক্তিগত উষ্ণতা নিয়ে মোদীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ফোনালাপের মূল বিষয়গুলো ছিল:
হরমুজ প্রণালী রক্ষা: বিশ্বের তেলের বাজারের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই জলপথ যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন ট্রাম্প।
শান্তির দূত মোদী: ইরান এবং আরব বিশ্বের সাথে ভারতের সুসম্পর্ক থাকায়, সংকট মেটাতে মোদীর মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প।
“উই অল লাভ ইউ”: আলোচনার এক পর্যায়ে ট্রাম্প মোদীকে বলেন, “আমি চাই আপনি জানুন যে আমরা সবাই আপনাকে ভালোবাসি।” যা দুই নেতার সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে।
জ্বালানি বাজারে প্রভাব: আমেরিকার এই অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় মোদী এই পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বেশ কিছু বড় জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে পারে।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি: আমেরিকার এই পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি তাদের বন্দর অবরুদ্ধ করা হয়, তবে পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা সবার জন্যই বিপন্ন হবে।
পশ্চিম এশিয়ার এই বারুদের স্তূপ এখন কি কোনো বড় যুদ্ধের পথে, নাকি মোদীর হস্তক্ষেপে বরফ গলবে? উত্তর খুঁজছে গোটা বিশ্ব।





