হুগলির আরামবাগ নেতাজি মহাবিদ্যালয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কলেজের এক অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে সমকামিতার প্রস্তাব, তাতে রাজি না হওয়ায় হেনস্থা এবং মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে এবং স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী অভিযোগ করেছেন যে, কলেজের এক অধ্যাপিকা তাকে কুপ্রস্তাব দেন। তিনি দাবি করেছেন, যখন তিনি এই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হননি, তখন থেকেই ওই অধ্যাপিকা তাকে নানাভাবে হেনস্থা করতে শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হেনস্থার মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী শারীরিক নিগ্রহেরও শিকার হন। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে মারধরের অভিযোগও তুলেছেন অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে।
এই গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কলেজের অভ্যন্তরীণ মহলে এবং প্রশাসনিক স্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, কী করে এমন একটি ঘটনা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ঘটতে পারে।
ছাত্রীটির অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে কলেজ সূত্রে খবর। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত অধ্যাপিকার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে, এই ঘটনায় কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরামবাগের এই ঘটনা শুধু স্থানীয় স্তরেই নয়, রাজ্যজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষকদের নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনার তদন্তে কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযোগের পর প্রকৃত সত্য কী বেরিয়ে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে, এই ঘটনা নিঃসন্দেহে কলেজের শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের পবিত্রতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।