পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাইলের পর মাইল ধান আর বাদাম চাষের জমি। কিন্তু সেই প্রথাগত চাষের বাইরে বেরিয়ে এবার চমক দেখালেন শেখ জুলফিকার। বাড়ির পাশের সামান্য পুকুর আর একটুখানি ঘেরা জায়গাকে কাজে লাগিয়েই এখন মাসে মোটা টাকা রোজগার করছেন তিনি। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য এখন এলাকার কয়েকশো বেকার যুবক ও চাষিদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন হাঁস পালন মুরগির চেয়ে সহজ?
জুলফিকারের মতে, হাঁস পালন অত্যন্ত লাভজনক এবং ঝুঁকিমুক্ত। মুরগির মতো হাঁসের ঘনঘন মড়ক লাগে না এবং এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। ফলে চিকিৎসার খরচও নামমাত্র। বাড়ির পাশের পুকুর বা জলাশয় থাকলে খাবারের খরচও অনেকটা কমে যায়। কারণ, হাঁস পুকুরের ছোট মাছ, শামুক ও পোকা খেয়েই দ্রুত বেড়ে ওঠে।
এক ব্যবসায় ত্রিমুখী আয়
বর্তমানে জুলফিকারের খামারে প্রায় ৪০০০ হাঁস রয়েছে। তিনি মূলত তিনটি উপায়ে লাভ করছেন:
ডিম বিক্রি: প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ ডিম বাজারে সরবরাহ করেন যা থেকে নিশ্চিত আয় হয়।
বাচ্চা উৎপাদন: উন্নত পদ্ধতিতে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে সেই বাচ্চা বিক্রি করে অতিরিক্ত লাভ করছেন।
মাংসের চাহিদা: বাজারে হাঁসের মাংসের প্রবল চাহিদা থাকায় উৎসবের মরসুমে চড়া দামে হাঁস বিক্রি করা যায়।
কম পুঁজিতে শুরু করে আজ তিনি গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন দিশারী। সঠিক পরিকল্পনা ও সামান্য যত্ন নিলে যে কৃষিকাজের পাশাপাশি হাঁস পালন করেও ভাগ্যের চাকা ঘোরানো যায়, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন এগরার এই যুবক। তাঁর সাফল্য দেখে এখন এলাকার আরও অনেক চাষিই ঝুঁকছেন এই ব্যবসায়।





