দেশের আইটি জগতের স্বনামধন্য সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর নাসিক শাখায় ঘটে যাওয়া ধর্মান্তরণ ও যৌন হেনস্থার মামলায় এবার সামনে এল ভয়ংকর সব তথ্য। ২০২২ থেকে ২০২৬— এই চার বছর ধরে কীভাবে এক হিন্দু তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, বিয়ের টোপ দিয়ে এবং শেষমেশ ব্ল্যাকমেল করে সর্বস্বান্ত করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বয়ান দিলেন প্রথম অভিযোগকারিণী।
পরিচয় থেকে প্রেমের ফাঁদ: ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কলেজে পড়ার সময় দানিশ শেখের সঙ্গে পরিচয় হয় অভিযোগকারিণীর। নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে দানিশ ওই তরুণীকে চাকরির প্রলোভন দেখাত। সেই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠতা। তরুণীর দাবি, ওই বছরের জুলাই মাস থেকেই দানিশ তাঁর ওপর শারীরিক চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে।
চাকরি ও লালসার জাল: দানিশের কথামতো ওই তরুণী একটি বহুজাতিক সংস্থায় (পরবর্তীতে TCS) চাকরি পান। একই সংস্থায় দানিশও কাজ করার সুবাদে যোগাযোগ আরও গাঢ় হয়। এরপরই দৃশ্যপটে প্রবেশ করে দানিশের বন্ধু তৌসিফ আক্তার ও নিদা খান। অভিযোগ, তখন থেকেই তরুণীকে ইসলাম ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব বোঝানো এবং হিন্দু ধর্ম নিয়ে কটূক্তি শুরু হয়।
হোটেল কাণ্ড ও নগ্ন ব্ল্যাকমেল: ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে বাইকে ঘোরানোর নাম করে তরুণীকে একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে দানিশ। অভিযোগকারিণীর দাবি, এই ঘটনার পর দানিশের বন্ধু তৌসিফ পুরো বিষয়টিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তৌসিফও ওই তরুণীকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং অফিসের মধ্যে কুপ্রস্তাব দেয়।
২০২৬-এর সেই রহস্যময় মেসেজ: ঘটনায় বড় মোড় আসে গত ফেব্রুয়ারিতে। হঠাৎ এক মহিলার মেসেজ পান অভিযোগকারিণী। জানতে পারেন, সেই মহিলা আসলে দানিশ শেখের স্ত্রী! শুধু তাই নয়, দানিশের দুই সন্তানও রয়েছে। চার বছর ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসা মানুষটার আসল রূপ দেখে ভেঙে পড়েন তরুণী।
ধর্ম পরিবর্তনের চরম চাপ: পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে নির্যাতিতা জানিয়েছেন:
তাঁকে প্রতিনিয়ত হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে কথা শুনতে বাধ্য করা হতো।
তৌসিফ ও দানিশ মিলে তাঁকে কড়া হুঁশিয়ারি দিত যে, ইসলাম গ্রহণ না করলে তাঁর গোপন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হবে।
অফিসেও তৌসিফ সুযোগ পেলেই তাঁর শরীরে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করত।
তদন্তে পুলিশ: ২০২২ থেকে ২০২৬— দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে এক তরুণীকে প্রতারণা, যৌন হেনস্থা ও ধর্ম পরিবর্তনের চাপের এই অভিযোগ এখন জাতীয় স্তরে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছে। এর পেছনে কোনো বড় ‘মডিউল’ কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





