“অনুব্রত নেই, কিন্তু নজরদারি কমছে না! বীরভূমের ৪৩ জন নেতার ওপর কড়া নজর কমিশনের, ভোটের আগেই নিশ্ছিদ্র পাহারা”

২০১৬ বা ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন মানেই ছিল বীরভূমে ‘কেষ্ট’ তথা অনুব্রত মণ্ডলের ওপর নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি। প্রতিবারই ভোটের দিন তাঁকে কার্যত গৃহবন্দি বা নজরবন্দি করে রাখত কমিশন। কিন্তু ২০২৬-এর এই মহাযুদ্ধে ছবিটা কিছুটা বদলেছে। এবার শুধু একজন নয়, বীরভূম জেলার মোট ৪৩ জন প্রভাবশালী নেতার ওপর সরাসরি নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের তালিকায় কারা আছেন? সূত্রের খবর, এই ৪৩ জনের তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরেরও বেশ কিছু নেতার নাম রয়েছে। মূলত যাদের বিরুদ্ধে অতীতে অশান্তি ছড়ানো বা ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ছিল, তাঁদেরই এই ‘নজরদারি’ তালিকায় রাখা হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টা ভিডিও নজরদারি: এই ৪৩ জন নেতার গতিবিধির ওপর নজর রাখতে প্রতিটি দলের সঙ্গে ভিডিওগ্রাফার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা থাকবেন।

  • মোবাইল ট্র্যাকিং: তাঁদের ফোন কলের ওপরও বিশেষ নজর রাখা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে।

কেন এই কড়াকড়ি? বীরভূম জেলা বরাবরই রাজনৈতিকভাবে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে পরিচিত। অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে জেলায় যাতে কোনো ধরণের ক্ষমতার লড়াই বা হিংসা না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতেই কমিশন এই ‘মাল্টি-লিডার মনিটরিং’ ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রথম দফার ভোট শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই এই নেতারা কার্যত কমিশনের নজরবন্দি থাকছেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, “বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে আমাদের কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।” অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা দাবি, “শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য অপরাধীদের চিহ্নিত করা জরুরি।”

এক নজরে: অতীতে এক অনুব্রতকে সামলাতেই হিমশিম খেতে হতো কমিশনকে। এবার ৪৩ জন নেতাকে কবজায় রেখে বীরভূমে কতটা শান্তিতে ভোট করানো যায়, সেটাই এখন বড় পরীক্ষা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy