সুখী দাম্পত্যের চাবিকাঠি কি স্বামীর মোটা মাইনে? যা বলছে গবেষণা

প্রতিটি অভিভাবকই চান তাদের মেয়ের বিয়ে হোক এক ভালো ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলের সঙ্গে, যাতে তাদের বৈবাহিক জীবন সুখের হয়। কারণ অভাবের সংসারে নিত্যদিনের সমস্যা লেগেই থাকে, বিশেষত স্বামী বেকার হলে।
যদিও অনেকেই বলেন অর্থ সুখ আনতে পারে না, তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অভাব যখন দরজায় কড়া নাড়ে, তখন ভালোবাসাও ফিকে হতে শুরু করে। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, স্বামীর মোটা মাইনেই নাকি সফল বৈবাহিক জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি! সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রায় ৬ হাজার ৩০০ জনের উপর একটি সমীক্ষা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বামী যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল হন, তাহলে দাম্পত্য জীবনে নানা সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। আসল সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন বরের কোনো stable চাকরি থাকে না অথবা রোজগার কম হয়। তাদের দাবি, প্রতি মাসের কম আয় দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ডেকে আনে।
কিন্তু এর কারণ কী? বর্তমান সমাজে অনেক সম্পর্কই চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যের উপর নির্ভরশীল। যদিও আজকাল নারীরাও পুরুষের সঙ্গে সমান তালে কর্মক্ষেত্রে অংশ নিচ্ছেন, তবুও অনেক নারী আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নন। তাই বৈবাহিক সম্পর্কের স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে স্বামীর রোজগার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে যদি একজনের রোজগার খুব ভালো হয়, সেক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। যদি কোনো স্ত্রী তার স্বামীর চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করেন, তাহলে স্বামী নিজেকে হীন মনে করতে পারেন। এমনকি পারিপার্শ্বিক লোকের নানা কথাও শুনতে হয় তাকে। এই পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ ও অশান্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
উথাহ স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা অন্য একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, বেশিরভাগ নারীই নাকি বেশি রোজগার করা পুরুষদের সঙ্গে ডেটে যেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আসলে আর্থিক নিরাপত্তা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং অনেকেই এটি নিশ্চিত হয়েই সম্পর্ক গড়তে চান।
তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রেম বা ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই। বাল্যপ্রেম বা কলেজের প্রেম আজও বিদ্যমান, তবে ধীরে ধীরে মানুষ বাস্তববাদী হতে চাইছে, এটিও সত্যি।
পরিশেষে, বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য ভালোবাসাই শেষ কথা হওয়া উচিত। তবে ভালোবাসার পাশাপাশি একটি সুখী সংসারের জন্য অর্থের গুরুত্বও অনস্বীকার্য। তাহলে কি সঙ্গীর মোটা রোজগার না থাকলে সম্পর্ক টিকবে না? অবশ্যই টিকবে, তবে তা নির্ভর করে চাহিদার উপর। এমন অনেক দম্পতি আছেন যারা অল্পতেই সন্তুষ্ট এবং স্বামীর রোজগার নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।