রাতে ঘুমানোর আগে মুখে টেপ লাগান ম্যানসিটির তারকা ফুটবলার আর্লিং হালান্ড! কী এর আসল রহস্য?

আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা এবং ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড তাঁর অসাধারণ শারীরিক ফিটনেস, বিধ্বংসী গতি এবং গোলের দুর্দান্ত ক্ষধার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সম্প্রতি এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের একটি অত্যন্ত অদ্ভুত এবং চমকপ্রদ জীবনযাত্রার অভ্যাস বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ক্রীড়া জগতের এই মহাতারকা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় নিজের মুখে একটি বিশেষ ধরনের টেপ বা স্কচ টেপ লাগিয়ে ঘুমান। সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত বা বিপজ্জনক মনে হলেও, হালান্ডের এই রুটিনের পেছনে রয়েছে গভীর বৈজ্ঞানিক এবং স্বাস্থ্যগত কারণ। বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদরা নিজেদের স্ট্যামিনা, শারীরিক পুনরুদ্ধার বা রিকভারি এবং মেটাবলিজম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখার জন্য নানা অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যার মধ্যে এটি অন্যতম।

চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং স্লিপ এক্সপার্টদের মতে, রাতে ঘুমানোর সময় মুখ বন্ধ রেখে সম্পূর্ণভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর্লিং হালান্ড মূলত ‘মাউথ ট্যাপিং’ নামক একটি প্রাচীন এবং পরীক্ষিত কৌশলের সাহায্য নেন। যখন কোনো মানুষ মুখ খোলা রেখে ঘুমান, তখন মুখ ও গলা শুষ্ক হয়ে যায় এবং শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের সঠিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে ঘুমের গভীরতা কমে যায়, ক্লান্তি দূর হয় না এবং নাক ডাকার মতো সমস্যা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমালে মস্তিষ্ক এবং ফুসফুস বাধ্য হয় স্বাভাবিকভাবে নাক দিয়ে বাতাস গ্রহণ ও ত্যাগ করতে, যা শরীরের ভেতরে অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা প্রায় কুড়ি শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

এই পদ্ধতির সুদূর প্রসারী শারীরিক উপকারিতা রয়েছে। প্রথমত, নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় নাকের ভেতরের মিউকাস মেমব্রেন বাতাসকে ফিল্টার করে, উষ্ণ করে এবং আর্দ্র করে ফুসফুসে পাঠায়, যা ধূলিকণা ও ব্যাকটেরিয়া ফুসফুসে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। দ্বিতীয়ত, এটি শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নাইট্রিক অক্সাইড হলো একটি প্রাকৃতিক গ্যাস যা রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে পুষ্টি উপাদান ও অক্সিজেনের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করে। তৃতীয়ত, গভীর বা রেম (REM) স্লিপ নিশ্চিত হওয়ার কারণে পেশির দ্রুত পুনরুদ্ধার ঘটে এবং সারা দিনের ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়। যদিও চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের অভ্যাস ঘরোয়াভাবে নিজে নিজে শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তবুও আর্লিং হালান্ডের মতো বিশ্বমানের অ্যাথলেটদের এই জীবনশৈলী আধুনিক স্বাস্থ্যের দুনিয়ায় নতুন এক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।