মানসিক চাপেই কি কমে যাচ্ছে আপনার ইচ্ছাশক্তি? অবসাদ দূর করে জীবনকে বশে আনার ৩ সহজ কৌশল!

অফিসের ডেডলাইন, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা, পরিবারের টুকিটাকি, সাংসারিক দায়দায়িত্ব এবং সেই সঙ্গে খুচখাচ অসুখ-বিসুখ—ব্যস্ত জীবনযাপনের নানা কারণে মানসিক চাপ প্রায় সবার জীবনেই চেপে বসছে।
মনোবিদদের মতে, গত কয়েক দশক ধরে এই মানসিক চাপ মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে কমিয়ে দিয়েছে এবং আত্মহত্যার প্রবণতা অনেকাংশে বাড়িয়েছে। সময়ের তুলনায় ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়া এবং তীব্র প্রতিযোগিতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারার কারণেই অবসাদ থাবা বসাচ্ছে।
তবে জীবনকে যদি একটু গুছিয়ে নিয়ে লক্ষ্য স্থির রাখা যায়, তাহলে মানসিক চাপকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কীভাবে তা সম্ভব? ‘স্ট্রেস’ বা মানসিক চাপ কমানোর কয়েকটি সহজ উপায় রইল আপনার জন্য।
১. সৃজনশীল কাজে মনকে ব্যস্ত রাখুন
রুটিনের বাইরের কিছু সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। হতে পারে সেটা ছবি আঁকা, বাগান করা কিংবা অন্য কোনো পছন্দের শখ। পছন্দের কোনো শখ থাকলে দিনের মধ্যে অন্তত আধ ঘণ্টা সময় তার জন্য বরাদ্দ রাখুন। এ ধরনের কাজে মনকে সক্রিয় রাখলে মানসিক চাপ কমে। এতে আপনি আপনার রোজকার কাজকেও নতুন করে ভালোবাসতে পারবেন।
২. মাল্টিটাস্কিং ছেড়ে একটি লক্ষ্যে স্থির হন
অনেকেরই স্বভাব হলো একসঙ্গে একাধিক (মাল্টিটাস্কিং) কাজ করা। একসময় ভালো কর্মী হিসাবে এই গুণ জনপ্রিয় হলেও, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কিন্তু উল্টো কথা বলছে। চিকিৎসকদের মতে, মাল্টিটাস্কিং আসলে কোনো কাজেই মন দিতে দেয় না। বরং এটি অ্যাড্রিনালিন নামক হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে। তাই মাল্টিটাস্কিং ছেড়ে বরং এক একটি কাজকে ‘লক্ষ্য’ করে এগোন। এতে মানসিক চাপ কমবে এবং কাজও ভালোভাবে সম্পন্ন হবে।
৩. ব্রিদিং এক্সারসাইজ ও মেডিটেশন করুন
প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখুন ব্রিদিং এক্সারসাইজ ও মেডিটেশনের জন্য। সারা দিনের কাজ, ব্যস্ততা, হুড়োহুড়িকে সামাল দেওয়ার জন্য এর জুড়ি নেই। চিকিৎসকদের মতে, মেডিটেশন নিয়মিত অভ্যাস করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মানসিক উদ্বেগ বা স্ট্রেস কমতে শুরু করে।