ভিটামিন ডি-এর অভাব: নীরব ঘাতক?

এ কথা এখন আর নতুন নয়, বরং রীতিমতো পরীক্ষিত ও প্রমাণিত যে আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগছেন। এই অত্যাবশ্যক ভিটামিনটির ঘাটতি শরীরে ডেকে আনছে অসংখ্য রোগ। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার শরীরেও এই ভিটামিনের অভাব রয়েছে কিনা? আসুন, জেনে নেওয়া যাক ভিটামিন ডি-এর অভাব বোঝার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ:
চেষ্টা করেও সন্তান আসছে না?
প্রখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইন্দ্রাণী লোধ জানাচ্ছেন, বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে আসা বহু মহিলার শরীরেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। তিনি বলছেন, “শহরে বসবাসকারী এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দিনের অনেকটা সময় কাটানো ও সূর্যের আলোর সংস্পর্শে কম আসা ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এখন এটা প্রমাণিত যে শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব থাকলে সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে।”
আপনার হাড়ের স্বাস্থ্য কি খারাপ?
ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় ক্রমশ দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে চল্লিশের কাছাকাছি বয়স হলেই এর প্রভাব বোঝা যায়, এবং মেনোপজের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। যাদের হাড়ের স্বাস্থ্য দুর্বল, তারা অল্প বয়সেই হাঁটুর ব্যথায় কষ্ট পান। এমনকি সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যেতে পারে।
প্রায়ই শরীরে ব্যথা হয়? ক্লান্ত লাগে?
হাড় দুর্বল হলে শরীরের জোড়গুলোতে ব্যথা অনুভব হতে পারে। পেশিগুলিও দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই সামান্য পরিশ্রমেও যদি শরীর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি হয়, তবে একে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। ভিটামিন ডি-এর অভাব পরবর্তীতে অস্টিওপোরোসিস, স্থূলতা, হৃদরোগ এবং এমনকি টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
প্রতিকার:
গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কারণ গর্ভাবস্থায় এই অত্যাবশ্যক ভিটামিনের অভাব ভ্রূণের ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। গর্ভস্থ শিশুর হাড় দুর্বল হলে তাকে সারা জীবন কষ্ট পেতে হতে পারে।
অনেকের মতে, দিনের বেলা ১০টা থেকে ৩টের মধ্যে অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য ত্বকে রোদ লাগালে ভিটামিন ডি-এর অভাব পূরণ করা সম্ভব। তবে এই সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত নয়। সপ্তাহে মোট আধ ঘণ্টার জন্য হাত, পা, মুখ ও পিঠে রোদ লাগালে অনেক সমস্যা এড়ানো যায়।
তবে অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রণেন রায় বলছেন, “বিভিন্ন সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে আমাদের শরীরে সূর্যের আলো থেকে যতটা ভিটামিন ডি শোষিত হওয়ার কথা, ততটা সম্ভবত হয় না। তাই শুধুমাত্র সূর্যের আলোর উপর নির্ভর করা ভুল হবে। সুষম খাদ্যের উপর জোর দিন। ডিম, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার, সবুজ শাকসবজি ও ফল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন। মনে রাখবেন, একটানা ১০-১২ ঘণ্টা বসে থাকার জন্য আমাদের শরীর তৈরি হয়নি। তাই যতটা সম্ভব হাঁটাচলা করুন, সক্রিয় থাকুন। নিয়মিত ব্যায়াম করলে এবং ধূমপান-মদ্যপান পরিহার করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।”
সুতরাং, আপনার শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাবের কোনো লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সুস্থ জীবনযাপনই কাম্য।