বিয়ের মাত্র দুদিন আগে চরম পরিণতি! প্রেমিকের নোংরা প্রতিহিংসায় সপরিবারে আত্মঘাতী তরুণী

একটি ফোনের মেসেজ আর প্রত্যাখ্যাত প্রেমিকের প্রতিহিংসা—এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে নিমেষেই চুরমার হয়ে গেল একটি সাজানো সংসার। বিয়ের ঠিক দুদিন আগে ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস হওয়ার অপমান সহ্য করতে না পেরে সপরিবারে আত্মঘাতী হলেন বাবা, মা ও তাদের ২১ বছরের তরুণী কন্যা। কর্নাটকের মাইসোর জেলার কেম্পাইনাহুন্ডি গ্রামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃতদের নাম শিবন্ন (৫৪), তাঁর স্ত্রী নাগারত্ন (৪৪) এবং তাঁদের কন্যা রক্ষিতা (২১)। জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ জুন রক্ষিতার বিয়ের দিন ধার্য হয়েছিল। বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজার কথা ছিল, চলছে আনন্দের আয়োজন। কিন্তু এই সুখের মাঝেই বিপর্যয় ঘনিয়ে আনে উল্লাস গৌড়া নামের এক স্থানীয় যুবক। রক্ষিতার বিয়ের কথা জানার পর থেকেই সে তাকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। রক্ষিতা তার প্রেমের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেও, উল্লাস তা মেনে নিতে পারেনি। সে রক্ষিতা এবং তাঁর বাবা-মাকে ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ২১ জুন রক্ষিতার বাবা শিবন্ন অভিযুক্ত উল্লাস এবং তার বাবা-মাকে নিজেদের বাড়িতে তলব করেন। সেখানে সকলের উপস্থিতিতে উল্লাসের ফোন থেকে রক্ষিতার কিছু ব্যক্তিগত ছবি এবং মেসেজ ডিলিট করানো হয়। ভেবেছিলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু উল্লাস ছিল প্রতিহিংসায় অন্ধ। বাড়ি থেকে বেরিয়েই সে ব্যাক-আপে রেখে দেওয়া অত্যন্ত ব্যক্তিগত ছবিগুলো সরাসরি পাঠিয়ে দেয় রক্ষিতার হবু বরের ফোনে।

ছবিগুলো পাওয়ার পর পাত্রপক্ষ তড়িঘড়ি রক্ষিতার বাড়িতে ছুটে আসেন। দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র বচসা ও অশান্তি শুরু হয়। মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম এবং সামাজিক মর্যাদাহানির চরম অপমানে প্রৌঢ় দম্পতি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন। ওই গভীর রাতেই শিবন্ন, নাগারত্ন এবং রক্ষিতা বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া সুইসাইড নোটে তাঁরা সরাসরি উল্লাস গৌড়াকেই দায়ী করেছেন। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত উল্লাস পলাতক। পুলিশ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করে একটি বিশেষ দল গঠন করেছে অভিযুক্তের খোঁজে। গোটা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে মাইসোর পুলিশ।