অযোধ্যায় রাম মন্দির অনুদান চুরি নিয়ে বিস্ফোরক অখিলেশ! ‘এসআইটি’ (SIT)-র নতুন অর্থ ব্যাখ্যা করে তোলপাড়!

অযোধ্যায় রাম মন্দিরের জন্য সংগৃহীত অনুদান চুরির ঘটনা নিয়ে সরব হলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। এই ঘটনাকে তিনি কেবল চুরি নয়, বরং একটি ‘গুরুতর পাপ’ বলে অভিহিত করেছেন। লখনউয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অযোধ্যায় যা ঘটেছে তা কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। সনাতন ঐতিহ্যের অঙ্গ হিসেবে সারা বিশ্ব থেকে আসা এই অনুদান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।
বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) গঠনের প্রসঙ্গ টেনে অখিলেশ যাদব তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “এসআইটি-র নতুন অর্থ হলো—চুরিতে অংশীদারিত্ব (Share In Theft)। এটা শুধু প্রশাসনের ব্যর্থতা নয়, এটা অমার্জনীয় অপরাধ।” অখিলেশের দাবি, যে পবিত্র বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মন্দির তৈরি হয়েছে, তাকে কলঙ্কিত করা হয়েছে।
পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বেঙ্গালুরু সফর নিয়েও তিনি চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন। উত্তরপ্রদেশে বিনিয়োগ টানার নামে সরকারের রোডশোকে ‘পিকনিক’ বলে কটাক্ষ করে অখিলেশ বলেন, “ব্যক্তিগত লাভের জন্য লক্ষ লক্ষ একর জমি বেহাত হয়ে যাচ্ছে, আর সরকার বেঙ্গালুরুতে যাচ্ছে দোসা খেতে। বিনিয়োগের নামে শুধু আইওয়াশ চলছে। সরকার যদি সত্যি বিনিয়োগ আনত, তবে কর্মসংস্থান হতো। কিন্তু তারা বন ধ্বংস করে ব্যক্তিগত এজেন্ডা পূরণ করছে।”
লখনউয়ের আলিগঞ্জের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে অখিলেশ যাদব সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিলে ওই শিশুদের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল। তিনি বলেন, “মহা কুম্ভ মেলার সময়ও অনেক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। লেভানা হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের সময় সরকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বুলডোজার চালানোর হুমকি দিয়েছিল, কিন্তু সেটা নিজেদের লোক হওয়ায় পরে পিছু হটে। যদি আকবর নগরে হাজার হাজার মানুষকে বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করা যায়, তবে গত ১০ বছরে প্রশাসনের কী করার ছিল?” অখিলেশের অভিযোগ, আগুন লাগার পর উদ্ধারকার্য চালানোর মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও পুলিশের কাছে ছিল না। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যারা মারা গিয়েছেন, তাঁদের মৃত্যুর জন্য দায়ী সরাসরি সরকারের অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রিতা।