বাচ্চাদের প্রোটিন পাউডার কি ক্ষতিকারক? কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ খেলে কিডনির পাথর বা লিভারের সমস্যা হতে পারে!

সন্তানকে ঠিকমতো খাওয়ানো যেন রীতিমতো যুদ্ধ মায়েদের কাছে। খেতে অনিচ্ছার বায়না যেন লেগেই থাকে প্রায় প্রত্যেক শিশুর মধ্যে। যার ফলস্বরূপ শিশুদের শরীরে ঠিকমতো পুষ্টির পূরণ হয় না। ঠিক তখনই এই পুষ্টি পূরণের লক্ষ্যে অভিভাবকেরা বাজারে পাওয়া যায় এমন বিভিন্ন প্রোটিন পাউডার বেছে নেন।

তবে দীর্ঘ সময় ধরেই এই প্রোটিন পাউডারগুলো নিয়ে জোর চর্চা ও বিতর্ক রয়েছে। বাজারে চলমান এই বিভিন্ন প্রোটিন পাউডারে থাকে নানা রকমের কৃত্রিম ফ্লেভার ও সংরক্ষণকারী পদার্থ বা প্রিজারভেটিভ, যা বাড়ন্ত শিশুদের জন্য ভালো নয়।

বিশেষ করে একটি জিনিস জেনে রাখা খুব দরকার যে দৈনিক শিশুদের কতটা প্রোটিন দরকার!

🔴 বয়স অনুযায়ী শিশুদের প্রোটিনের চাহিদা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা তাদের বয়স, কার্যাকলাপের মাত্রা এবং লিঙ্গের ওপর নির্ভর করে।

বয়সসীমাদৈনিক প্রয়োজনীয় প্রোটিনের পরিমাণ
১ থেকে ৩ বছর১৩ গ্রাম
৪ থেকে ৮ বছর১৯ গ্রাম
৯ থেকে ১৩ বছর৩৪ গ্রাম
১৪ থেকে ১৮ বছর৫০ গ্রাম

⚠️ প্রোটিন পাউডার খাওয়ানোর ঝুঁকি ও সতর্কতা

  • কখন প্রয়োজন: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রোটিন পাউডারের প্রয়োজনীয়তা তখনই হয়, যখন শিশুরা নিয়মিত খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রোটিন পায় না

  • বিপদ: ২০১৩ সালে করা একটি সমীক্ষা অনুসারে, প্রিজারভেটিভ যুক্ত প্যাকেজজাত প্রোটিন পাউডার নিয়মিত সেবনের ফলে কিডনিতে পাথর, লিভারের সমস্যা, সংবহনতন্ত্রের রোগ এবং হাড়ের অসুখ দেখা দিতে পারে।

  • পরামর্শ: শিশুদের প্রোটিন পাউডার খাওয়াতে চাইলে তার আগে পুষ্টিবিদ বা শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

🌿 প্রোটিনের প্রধান প্রাকৃতিক উৎস

প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস হল:

  • টাটকা মাংস ও তৈলাক্ত মাছ

  • ডিম

  • তাজা দুগ্ধজাত দ্রব্য (দুধ, ছানা, দই)

  • ডাল, পালংশাক ও ব্রকলির মতো সব্জি

🥣 ঘরে প্রোটিন পাউডার তৈরির পদ্ধতি

বাচ্চাদের জন্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও প্রিজারভেটিভ এড়িয়ে ঘরেই খুব সহজে প্রোটিন পাউডার তৈরি করা যায়:

  1. উপাদান: একটি ব্লেন্ডারে তিন কাপ গুঁড়া দুধ, এক কাপ ওট্স, এক কাপ বাদাম (যেমন: কাঠবাদাম বা কাজুবাদাম) এবং পরিমাণ মতো গুড়, চিনি বা সুইটনার নিয়ে নিন।

  2. প্রস্তুতপ্রণালী: এ বার এগুলি একসঙ্গে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মিহি পাউডার তৈরি করুন।

  3. সংরক্ষণ: পাউডারটি একটি পরিষ্কার বয়ামে সংরক্ষণ করুন। অনেক দিন এই পাউডার রাখতে চাইলে বয়ামটি ফ্রিজে রাখতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে তৈরি এক চামচ প্রোটিন পাউডারে প্রায় ১৮০ ক্যালোরি বা ১২ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে।