বর্ষায় কেন বাড়ে অ্যালার্জি? সর্দি-কাশি, ফুড অ্যালার্জি থেকে অ্যানাফাইলেক্সিস—বিশেষজ্ঞের মতে ৭ ধরণের অ্যালার্জির কারণ ও চিকিৎসা

অ্যালার্জির সমস্যায় অনেকেই ভোগেন এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনকও হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত বর্ষা মৌসুমে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। অ্যালার্জি হলো ইমিউন সিস্টেমের (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) একটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা, যা পরিবেশের কোনো নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের কারণে সৃষ্টি হয়।

অ্যালার্জেন কী এবং অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন কী?

 

যদি কোনো বস্তু বা উপাদান মানুষের শরীরে হাইপারসেনসিটিভ (Hyper-sensitive) প্রতিক্রিয়া দেখায়, তবে সেইসব বস্তু বা উপাদানকে সেইসব মানুষের জন্য অ্যালার্জেন বলা হয়। এই অ্যালার্জেন শরীরের সংস্পর্শে এলে যে উপসর্গগুলো দেখা দেয়, তাকে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন বা হাইপারসেনসিভিটি রিঅ্যাকশন বলা হয়।

হাইপারসেনসিভিটি রিঅ্যাকশনকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। অ্যালার্জেন দ্বারা শরীরের যে হাইপারসেনসিভিটি রিঅ্যাকশনটি দেখা যায়, যাকে আমরা স্বাভাবিকভাবে অ্যালার্জি বলে থাকি, তা মূলত টাইপ ওয়ান হাইপারসেনসিভিটি রিঅ্যাকশনকে বোঝায়।

৭ ধরনের সাধারণ অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াসমূহ

 

১. অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (Allergic Rhinitis): বৃষ্টিতে ভিজলে, ধুলোবালিতে গেলে, ঠান্ডা লাগলে বা ঠান্ডা পানীয় পান করলে অনেকের সর্দি কাশি শুরু হয়। এটি মূলত অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। এ সময় শ্বাসযন্ত্রের মিউকাস মেমব্রেন আক্রান্ত হয় এবং হিস্টামিনের প্রভাবে প্রচুর মিউকাস তৈরি হয়। লুউকোট্রিন নামক পদার্থ কাশি তৈরির জন্য শ্বাসযন্ত্রকে উত্তেজিত করে।

২. অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস (চোখের অ্যালার্জি): এটি চোখের একটি অ্যালার্জিজনিত রোগ। এর ফলে চোখ লাল হয়ে যায়, চোখ থেকে জল পড়ে, চুলকায় ও ব্যথা করে। ৬-১২ বছরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে পুকুরে স্নান করলে বা বাইরে খেলাধুলা করলে।

৩. ফুড অ্যালার্জি (Food Allergy): অনেকের ক্ষেত্রে মাংস, বেগুন, চিংড়ি মাছ বা বাইরের নির্দিষ্ট কোনো খাবার খেলে শরীর চুলকায় বা বমি বমি ভাব হয়। এগুলো মূলত ফুড অ্যালার্জির কারণে হয়। এক্ষেত্রে ওই খাবার অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে, তাই সেসব খাবার পরিহার করে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. ড্রাগ অ্যালার্জি (Drug Allergy): কিছু মানুষ নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা মেডিসিন গ্রহণ করলে শরীর চুলকাতে চুলকাতে লাল হয়ে যায়। এর অর্থ, ওই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি তাদের হাইপারসেনসিটিভিটি আছে। কোনো মেডিসিন ব্যবহারের ফলে হাইপারসেনসিটিভিটি রিঅ্যাকশন শুরু হলে, তাকে ড্রাগ অ্যালার্জি বলা হয়।

৫. অ্যানাফাইলেক্টিক রিঅ্যাকশন (Anaphylactic Reaction): এটি এক প্রকার জরুরী অ্যালার্জিক অবস্থা (Emergency Allergic Condition)। কীটপতঙ্গের কামড়ে বা সংস্পর্শে আসার কিছুক্ষণ পর ত্বকে লাল চাকা দেখা যায়, যা প্রচণ্ড চুলকায় এবং সারা শরীর ব্যথা করে। যাদের শরীর হাইপারসেনসিটিভ, তাদের ক্ষেত্রে এই অ্যানাফাইলেক্টিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে।

৬. এটপিক অ্যাকজিমা (Atopic Eczema): এটি এক প্রকার অ্যালার্জিক স্কিন কন্ডিশন, যা অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশনের কারণে হয়ে থাকে। এতে ত্বক শুষ্ক ও চুলকানিযুক্ত হয়।

৭. রাইনো ভাইরাস (Rhino Virus): অনেক সময় রাইনো ভাইরাসও অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের মতো উপসর্গ তৈরি করে অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে।

অ্যালার্জির চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

 

  • স্থায়ী চিকিৎসা: প্রথমে জেনে রাখা ভালো, অ্যালার্জির কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই, কারণ এর সম্পর্ক ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে।

  • প্রতিরোধ: যাদের যেসব বস্তু বা খাবারে অ্যালার্জি আছে, তা পরিহার করে চলাই সর্বোত্তম চিকিৎসা।

  • মেডিকেশন: অ্যালার্জিতে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে হিস্টামিন রিলিজ হয়, তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে অ্যান্টি-হিস্টামিন হচ্ছে মূল চিকিৎসা। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা বিপজ্জনক হতে পারে। যেকোনো শারীরিক সমস্যায় সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।