“১৭৫টি স্টেশনে ৫০০টি ভেন্ডিং মেশিন”-রেল স্টেশনেই মিলবে ফ্রি স্যানিটারি ন্যাপকিন!

মহিলা যাত্রীদের ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি মাথায় রেখে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল। নর্দার্ন রেলওয়েজ এবং ইন্ডাস টাওয়ার্সের যৌথ উদ্যোগে দিল্লি, ফিরোজপুর, আম্বালা, মোরাদাবাদ ও লখনউয়ের মোট ১৭৫টি রেল স্টেশনে ৫০০টি স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টা পরিষেবা ও সুবিধা: এই ভেন্ডিং মেশিনগুলি মূলত আইওটি (IoT)-সক্ষম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত, যা ২৪ ঘণ্টা মহিলা যাত্রীদের বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ করবে। ভ্রমণরত অবস্থায় হঠাৎ প্রয়োজনের মুহূর্তে এই পরিষেবা মহিলা যাত্রীদের জন্য এক বড় স্বস্তি হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় ৩ কোটি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়েছে।
‘নারী সম্মান’ ও সচেতনতা: ইন্ডাস টাওয়ার্স-এর সিএসআর (CSR) কর্মসূচি ‘নারী সম্মান’-এর অধীনে এই প্রকল্পটি রূপায়ণ করা হয়েছে। ভারত সরকারের ‘মাসিক স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প’ (MHS)-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্যানিটারি পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।
কী বলছেন রেল কর্তৃপক্ষ? নর্দার্ন রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার রাজেশ কুমার পাণ্ডে জানিয়েছেন, “ভারতীয় রেল প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মহিলা ও কিশোরী যাত্রীদের যাতায়াতের মাধ্যম। শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনে তাঁরা এই নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
লক্ষ্য ২০৩০: ইন্ডাস টাওয়ার্স লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার তেজিন্দর কালরা জানিয়েছেন, প্রযুক্তি-ভিত্তিক এই সমাধানটি গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও বেশি করে মহিলা-বান্ধব করার লক্ষে নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার যে লক্ষ্যমাত্রা সংস্থাটি নিয়েছে, এই প্রকল্প তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত কোচ বা উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি, এই স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিনগুলি ভারতীয় রেলের মহিলা-বান্ধব পরিকাঠামোয় এক নতুন মাত্রা যোগ করল।