সব্যসাচী-কাণ্ডে তৃণমূলের অন্দরে তোলপাড়, ঘনিষ্ঠ নেত্রীর বাড়ি থেকে উদ্ধার ৪ কোটি টাকার সোনা!

বিধানসভা নির্বাচনের মরশুম মিটলেও বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চাঞ্চল্য কমছে না। নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে দলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা দাপুটে নেতা সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারি এবং তার পরবর্তী পুলিশি তদন্ত তৃণমূলের অন্দরে দুর্নীতির কালো ছায়া আরও প্রকট করে তুলেছে। বিধাননগর উত্তরের তোলাবাজি মামলার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃত নেতা সব্যসাচী দত্তকে জেরা করে পুলিশ পৌঁছে গিয়েছিল নদিয়ার তেহট্ট ও করিমপুরে। সোমবার গভীর রাতে ওই এলাকায় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রী তথা জেলা পরিষদ সদস্যা টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে হানা দেয় বিধাননগর পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল।

তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, তল্লাশি চালিয়ে ওই নেত্রীর পৈতৃক বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ৩ কেজি ওজনের সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গয়নার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। পুলিশ সূত্রে খবর, সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে ওই নেত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি চালানো হয়। ধৃত নেতার রাজারহাটের ফ্ল্যাট এবং ব্যাঙ্ক লকার থেকে এর আগেই বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার রসিদ ও ভাউচার উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তোলাবাজির টাকাতেই সব্যসাচী সোনা কিনে বিভিন্ন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বাড়িতে বিনিয়োগ করেছিলেন।

অন্যদিকে, বিধানসভার অন্দরেও শাসকদলকে তীব্র নিশানা করছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড়া হবে না। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দু্র্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একদিকে সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠমহলে পুলিশের ম্যারাথন তল্লাশি এবং উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনা, অন্যদিকে নতুন সরকারের কড়া অবস্থান—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে এখন কার্যত ডামাডোল পরিস্থিতি। আসল তৃণমূল কারা এবং দলের কতজন হেভিওয়েট নেতা এই দুর্নীতির জালে জড়িয়ে আছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ টিনা সাহা অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তদন্তের জট যত খুলছে, ততই বাড়ছে শাসকদলের বিড়ম্বনা।