মৃত্যুপুরী তারাতলা! নির্মীয়মাণ গোডাউনের লোহার বিম ও টিনের নিচে চাপা পড়লেন ৪০-৪৫ জন শ্রমিক

শহরের বুকে এক ভয়াবহ শিল্প-বিপর্যয়। আজ তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ কারখানার শেড হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, ওই সময় শেডের ভেতরে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন শ্রমিক ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। বিশাল লোহার বিম ও টিনের নিচে চাপা পড়ে বহু মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় একটি কারখানার গোডাউন তৈরির কাজ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, নির্মাণের মাঝপথেই একবার শেডটি ভেঙে পড়েছিল। পরবর্তীতে তাড়াহুড়ো করে সেই কাঠামোর নিচে ঢুকেই কাজ শুরু করেন কর্মীরা। শেডের ভেতরেই একটি ছোট অফিস করা হয়েছিল, যেখান থেকে কাজের তদারকি চলত। ঠিক সেই সময়ই আচমকা আস্ত শেডটি ধ্বসে পড়ে। লোহার বিম ও টিনের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকরা কার্যত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী শিউরে ওঠা বর্ণনা দিয়ে জানান, “ভিতরে অনেকেই আটকে আছেন। কারণ, কাজ চলাকালীন ওই বিশাল জায়গাটিতেই শ্রমিকরা ছিলেন। অনেকে অফিসের ভেতরে কাজ করছিলেন, কেউ বা আবার টিনের চালের নিচে বিশ্রামে ছিলেন। চোখের নিমেষে পুরোটাই ভেঙে পড়ে।” এলাকাটি বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিয়েছে। লোহার বিমের আঘাতে অনেকের মাথা থেঁতলে গেছে, কারোর হাত বা পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে—এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যও দেখা গেছে।
উদ্ধারকাজকে ত্বরান্বিত করতে ঘটনাস্থলে ক্রেন আনা হয়েছে। লোহার ভারী বিম কেটে শ্রমিকদের বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন দমকলকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন পর্যন্ত বহু জখম ব্যক্তিকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের অনেকেরই শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় মানুষ একসঙ্গে লড়াই করছেন যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রতিটি প্রাণকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা যায়। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।