বুকে ব্যথা ছাড়াই আসে নীরব স্ট্রোক! আপনার অজান্তেই হার্ট অ্যাটাক ডেকে আনছে রোজকার এই ৭টি সাধারণ ভুল!

আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন, হার্টের বড় কোনো সমস্যা হলে শরীর নিশ্চয়ই আগেভাগে বড় কোনো সতর্কবার্তা দেবে। কিন্তু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আসল বিপদটি ধেয়ে আসে সম্পূর্ণ নিঃশব্দে। আমাদের প্রতিদিনের কিছু অতি-সাধারণ এবং নিরীহ মনে হওয়া অভ্যাস ভেতরে ভেতরে হৃৎপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এর ফলে একদিন হঠাৎ করেই কোনো আগাম লক্ষণ ছাড়াই মানুষ হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়।

যদি আপনার হার্টকে দীর্ঘদিন সচল ও তরতাজা রাখতে চান, তবে আজই প্রতিদিনের এই ৭টি ক্ষতিকর অভ্যাস শুধরে নিন:

১. দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাটানো
অফিসের চেয়ারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা কিংবা জ্যামে আটকে স্ক্রিনের দিকে চেয়ে থাকা আজকের দিনে স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায়। এটি পরোক্ষভাবে ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তনালীতে চর্বি জমার পথ প্রশস্ত করে।

২. ঘুমকে অবহেলা করা
ঘুম কেবল অবসাদ দূর করে না, ঘুমের সময়ই মূলত শরীর নিজের ক্ষয়প্রাপ্ত কোষ মেরামত ও হৃৎপিণ্ডকে পুনরুজ্জীবিত করে। প্রতিদিন ৭ ঘণ্টার কম ঘুমালে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন বাড়ে, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।

৩. খাবারে লুকিয়ে থাকা বাড়তি লবণ
প্যাকেটজাত চিপস, কুড়মুড়ে স্ন্যাক্স, প্রক্রিয়াজাত সসেজ কিংবা রেস্তোরাঁর মুখরোচক খাবারে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম বা লবণ লুকিয়ে থাকে। এই অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তনালীতে জলের চাপ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে রক্তচাপ (Blood Pressure) বাড়ে এবং হৃৎপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়।

৪. ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
আজকের ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থাকবেই। কিন্তু যখন এই চাপ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়, তখন তা হার্টের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় ধ্যান করা, নিজের পছন্দের শখের কাজ করা কিংবা প্রিয়জনদের সাথে গল্প করার মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো অত্যন্ত জরুরি।

৫. যেকোনো বেলার খাবার বাদ দেওয়া (Skip করা)
ডায়েটিং করতে গিয়ে কিংবা কাজের ব্যস্ততায় দুপুরের খাবার বা রাতের খাবার বাদ দিচ্ছেন না তো? কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে তা শরীরের শক্তির ভারসাম্য বিগড়ে দেয়। ফলস্বরূপ, ক্ষুধার চোটে দিনের অন্য সময়ে মানুষ অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খেয়ে ফেলে, যা কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়।

৬. অলস জীবনযাপন বা কায়িক পরিশ্রম না করা
হার্ট সুস্থ রাখতে আপনাকে জিম গিয়ে কঠোর ব্যায়াম করতে হবে না। শুধু অলসভাবে শুয়ে-বসে না থেকে দিনে অন্তত ৩০ মিনিট জোরকদমে হাঁটা, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা কিংবা সাইকেল চালানোর মতো সাধারণ শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখুন। এটি হৃদপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন সচল রাখে।

৭. ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান
সিগারেটের নিকোটিন ও তামাকের বিষাক্ত উপাদান সরাসরি রক্তনালীর দেয়ালকে শক্ত ও সংকুচিত করে ফেলে। এর সাথে মদ্যপানের অভ্যাস যুক্ত হলে হার্ট অ্যাটাক এবং ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে পারলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য দ্রুত ইতিবাচক দিকে ফিরতে শুরু করে।

সম্পাদকের শেষ কথা: হৃদরোগ কিন্তু একদিনে বাসা বাঁধে না। আজ থেকেই এই ছোট ছোট ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন, তাজা ও পুষ্টিকর খাবার পাতে রাখুন এবং অকেজো হওয়ার আগেই নিজের হৃদযন্ত্রটির সঠিক যত্ন নিন!