“ডাবল ইঞ্জিন” মানে শুধু রাস্তাঘাট নয়! বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

রবিবার শহর কলকাতার ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় গ্রন্থাগারে উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’ বা শব্দ সংগ্রহশালার। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মঞ্চ থেকেই বাংলার সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে নিজের সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন।

পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার দেশের সমস্ত রাজ্যকে পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের নির্দেশ দিলেও, আগের রাজ্য সরকার তা মানেনি। কিন্তু আমাদের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দু’মাসের মধ্যেই সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করে দিয়েছে।” গ্রন্থাগারের আধুনিকীকরণ এবং ভাষা-সাহিত্য সংরক্ষণের বিষয়ে বর্তমান সরকার যে কতটা অঙ্গীকারবদ্ধ, এদিন তার খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

অমিত শাহের চিঠি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তিনদিনের বঙ্গ সফরের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং একে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অমিত শাহ তাঁকে একটি চিঠি লিখেছেন। তবে এর বিস্তারিত বিষয় নিয়ে তিনি সোমবার বিধানসভায় বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন: জাতীয় গ্রন্থাগারের এই নতুন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন শুভেন্দু অধিকারী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বাংলার সমৃদ্ধশালী ইতিহাস কেবল পুঁথিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তাকে আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাই সরকারের লক্ষ্য।

‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রতিশ্রুতি: বক্তব্যের শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, উন্নয়ন মানে কেবল রাস্তাঘাট বা পরিকাঠামো নয়। কেন্দ্রের সহযোগিতায় রাজ্য সরকার বাংলার চিরায়ত সম্পদ, পাণ্ডুলিপি এবং ভাষাকে সুসংরক্ষিত রাখতে বদ্ধপরিকর। উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধনে ডাবল ইঞ্জিন সরকার যে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে, তা এদিন আবারও স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।