ত্বকে আঁচিল বাড়ছে? শরীরের পক্ষে কি এটি ক্ষতিকর? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মতামত!

আমাদের ত্বকে প্রায়শই ছোট ছোট কিছু বর্ধিত অংশ দেখা যায়, যাকে আমরা সাধারণত আঁচিল বলি। বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘অ্যাক্রোকর্ডন’। বেশিরভাগ আঁচিলের দৈর্ঘ্য এক থেকে পাঁচ মিলিমিটারের মধ্যে হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি পাঁচ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হতে পারে। সাধারণত, এই উপবৃদ্ধিগুলো ক্যান্সারের লক্ষণ নয়। চিকিৎসকদের মতে, প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময় দেহে একটি হলেও আঁচিল দেখা দেয়।
আঁচিল কেন হয়?
ত্বকের একেবারে বাইরের স্তরের কিছু কোষের অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে আঁচিল তৈরি হয়। এছাড়া, ত্বকের দুটি স্তর যখন বারবার পরস্পর ঘষা খায়, তখনও এই ধরনের উপবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। এই কারণেই সাধারণত বগল, চোখের পাতা, কুঁচকি কিংবা ঘাড়ের মতো স্থানে আঁচিল বেশি হয়।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে আঁচিল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিস বা স্থূলতাও আঁচিল হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
আঁচিল কি শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত এই ধরনের উপবৃদ্ধি শরীরের জন্য খুব একটা ক্ষতিকর নয়। তবে, যদি আঁচিল দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হয়, তবে তা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। যেমন, পোশাক বা গহনার সাথে ঘষা লেগে জ্বালা বা রক্তপাত হতে পারে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিছু রোগের উপসর্গ অনেকটাই আঁচিলের মতো দেখতে হয়। বিশেষত, যদি কোনো আঁচিল ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে, তার রঙ বা আকার পরিবর্তন হয়, অথবা তা থেকে রক্তপাত হয়, তবে তা ত্বকের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
সাধারণ মানুষের পক্ষে আঁচিল না ক্যান্সার, তা বোঝা সহজ নয়। তাই, যদি আপনার ত্বকে অস্বাভাবিক কোনো উপবৃদ্ধি দেখেন বা পুরনো আঁচিলের কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময় মতো সঠিক নির্ণয় এবং চিকিৎসা গ্রহণ করলে বড় কোনো বিপদ এড়ানো সম্ভব।