এসএস রাজামৌলি মানেই সেলুলয়েডে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ক্যানভাস। তাঁর প্রতিটি দৃশ্য নিখুঁত করতে তিনি কোনো খামতি রাখেন না। কিন্তু এবার নিজের স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘বারাণসী’র শুটিং করতে গিয়ে এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পড়লেন ‘আরআরআর’ খ্যাত এই পরিচালক। গগনপাহাড়ের হায়দরাবাদ ফিল্ম সিটি স্টুডিয়োতে মহেশ বাবু ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘আন্ডারওয়াটার’ বা জলের তলার দৃশ্যের শুটিং করার কথা ছিল রাজামৌলির। আর সেই দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন ছিল ১৫ লক্ষ লিটার জল! কিন্তু হায়দরাবাদ মেট্রোপলিটন জল সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন বোর্ড (HMWSSB) সাফ জানিয়ে দিল—এত জল দেওয়া সম্ভব নয়।
আবেদন ও প্রত্যাখ্যানের নেপথ্যে:
ছবির প্রযোজনা সংস্থা ‘শ্রী দুর্গা আর্টস’-এর পক্ষ থেকে হায়দরাবাদ জল সরবরাহ বোর্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে. অশোক রেড্ডিকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়, শুটিংয়ের জন্য ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ১৫০টি জলের ট্যাঙ্কার প্রয়োজন। কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করে জলের নিচে শুটিং করার জন্য এই বিশাল পরিমাণ পরিশোধিত জলের আবেদন জানিয়েছিলেন নির্মাতারা। এমনকি ট্যাঙ্কারগুলো শুটিং স্পটে পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল প্রযোজনা সংস্থা। কিন্তু বর্তমানে তেলেঙ্গানায় তীব্র দাবদাহ ও জলসংকট চলায় প্রশাসন এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। মৌখিকভাবে নির্মাতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের পানীয় জলের কষ্ট মিটিয়ে সিনেমার শুটিংয়ের জন্য এত বিপুল পরিমাণ জল সরবরাহ করা এই মুহূর্তে অসম্ভব।
‘বারাণসী’ ও রাজামৌলির মহাকাব্যিক পরিকল্পনা:
রাজামৌলির এই আসন্ন সাই-ফাই অ্যাকশন ড্রামাটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল ছবি হতে চলেছে। এই ছবিতে মহেশ বাবুকে দেখা যাবে ‘রুদ্র’ নামক এক টাইম ট্রাভেলার অ্যাডভেঞ্চারারের ভূমিকায়। গল্প অনুযায়ী, রুদ্র রামায়ণ যুগের এক অতি প্রাচীন রহস্যময় পুরাবস্তুর সন্ধানে বিভিন মহাদেশ চষে বেড়ান। প্রায় এক দশক পর এই ছবির মাধ্যমেই ভারতীয় সিনেমায় ফিরছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, যাঁর চরিত্রের নাম ‘মন্দাকিনী’। খলনায়কের ভূমিকায় দেখা যাবে পৃথ্বীরাজ সুকুমারনকে।
শুটিং কি বন্ধ হবে?
মে মাস জুড়েই এই আন্ডারওয়াটার সিকোয়েন্সের শুটিং চলার কথা ছিল। প্রশাসনের থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নেটিজেনদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—তবে কি রাজামৌলি চিত্রনাট্যে বদল আনবেন? নাকি দৃশ্যটি বাদ দেবেন? তবে ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, দমে যাওয়ার পাত্র নন রাজামৌলি। তাঁর টিম বিকল্প উৎস থেকে জল সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে শুটিংয়ের গুণগত মানে কোনো প্রভাব না পড়ে। ভারত থেকে অ্যান্টার্কটিকা—বিশাল ক্যানভাসে বিস্তৃত এই ছবিটি ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা। এখন দেখার, বরুণ দেবের আশীর্বাদ ছাড়াই রাজামৌলি কীভাবে এই ‘জলের যুদ্ধ’ জয় করেন।





