“ঔদ্ধত্যের ফল হাতেনাতে!” তৃণমূলের ভরাডুবির পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধনা করলেন ব্রাত্য বিধায়ক কাঞ্চন

জন্মদিনের আনন্দ আর রাজনীতির দহন—অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের জীবনে এই দুই সমীকরণ এখন সমান্তরাল। ঘড়ির কাঁটায় তখন মধ্যরাত। স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ আর ছোট্ট মেয়ে কৃষভিকে নিয়ে কেক কেটে জন্মদিনের উদযাপনে মাতলেন অভিনেতা। কিন্তু আনন্দের আবহেও বিষাদ আর ক্ষোভের ছায়া তাঁর কথায়। মঙ্গলবার সকালে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিতে গিয়েই রাজনীতির রণাঙ্গন নিয়ে কার্যত বোমা ফাটালেন উত্তরপাড়ার এই প্রাক্তন বিধায়ক। এবার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটের তালিকায় নাম নেই কাঞ্চনের, আর সেই ক্ষোভই যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বেরোল তাঁর মুখ থেকে।

রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় নিয়ে কাঞ্চন সোজাসাপ্টা ভাষায় জানালেন, কোথাও বড়সড় ভুল হয়েছে। তাঁর কথায়, “সত্যেরে লও সহজে… একজন বা দুজন বোকা হতে পারেন, কিন্তু রাজ্যের সব মানুষ তো বোকা নন। জনগণের সেবায় কোথাও বড় খামতি থেকে গিয়েছিল। ৭৪ জন অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিধায়ককে বসিয়ে দিয়ে হঠাৎ একঝাঁক নতুন মুখ আনা হলো—এটা কি হারের একটা কারণ হতে পারে না?” কাঞ্চনের ইঙ্গিত সরাসরি দলের বর্তমান রণকৌশলের দিকে। নিজের কথা সরিয়ে রেখেও তিনি স্পষ্ট করলেন যে, পুরনো চাল ভাতে বাড়ে—এই চিরন্তন সত্যটি দল এবার ভুলে গিয়েছিল।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যটি উঠে এল দলের পরিকাঠামো নিয়ে। কাঞ্চন সোজাসুজি প্রশ্ন তুললেন ‘কর্পোরেট কালচার’ নিয়ে। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দল যদি সাধারণ মানুষের থাকে তবেই মঙ্গল। কিন্তু জোর করে সেটাকে কর্পোরেট বানানোর চেষ্টা করলেই বিপদ!” এই ইঙ্গিত কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইপ্যাক (I-PAC) নির্ভর কৌশলের দিকে? কাঞ্চনের জবাব ছিল রূপকধর্মী। তিনি বলেন, “নৌকা যখন ডুবেই গিয়েছে, তখন কটা ফুটো ছিল তা নিয়ে আলোচনা করে কী লাভ? ঠিক সময়ে সাবধান হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সাবধানবাণী নাবিকের কানে তো পৌঁছায়নি!”

পাশাপাশি সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে একরাশ ঘৃণা উগরে দিয়েছেন অভিনেতা। নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রচারের গাড়ি থেকে কল্যাণ তাঁকে অপমান করে নামিয়ে দিয়েছিলেন—সেই স্মৃতি আজও কাঞ্চনের মনে দগদগে। এতদিন দলের শৃঙ্খলার খাতিরে চুপ থাকলেও আজ তিনি বিস্ফোরক। তিনি বলেন, “সেদিন দিনের আলোয় অত মানুষের মাঝে আমাকে যেভাবে অপমান করা হয়েছিল, তার যন্ত্রণা শুধু আমিই বুঝি। তখন দলের সম্মানের কথা ভেবে কিছু বলিনি। কিন্তু আজ ওঁর হারের পর শুধু এটাই বলব—উনি যদি প্রকৃত মানুষ হন তবে আজ নিশ্চয়ই টের পাচ্ছেন যে ঔদ্ধত্যের ফল কী ভয়ংকর হয়!” জন্মদিনের সকালেই কাঞ্চনের এই রুদ্রমূর্তি যেন বুঝিয়ে দিল, ওলটপালট হওয়া বাংলার রাজনীতিতে আপাতত ‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠ’ তকমাটা ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন অভিনেতা।