২০২৬ সালের মেট গালা (Met Gala) এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল। বিশ্ব ফ্যাশনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ, যাকে অনেকেই ‘শৈলীর অস্কার’ বলে ডাকেন, সেখানে রাজকীয় অভিষেক ঘটল বলিউডের প্রখ্যাত পরিচালক ও প্রযোজক করণ জোহরের। এই বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ফ্যাশনই শিল্প’ (Fashion is Art), আর সেই থিমকে পর্দার এই জাদুকর যেভাবে ফুটিয়ে তুললেন, তা এক কথায় অনবদ্য। তাঁর সাজ কেবল কাপড়ের কারুকার্য ছিল না, তা ছিল সংস্কৃতি ও আবেগের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
করণ জোহরের এই লুকটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে—”ফ্রেমড ইন ইটারনিটি” (Framed In Eternity)। এই পোশাকের মূল অনুপ্রেরণা হলেন কিংবদন্তি ভারতীয় চিত্রশিল্পী রাজা রবি বর্মা। সোশাল মিডিয়ায় করণের মন্তব্য অনুযায়ী, রবি বর্মার চিত্রকর্মে যে আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তা তাঁকে মুগ্ধ করে। তিনি তাঁর সিনেমাতেও সেই আবেগ তুলে ধরার চেষ্টা করেন। ফলে এই সাজটি ছিল চলচ্চিত্র ও চিত্রশিল্পের এক অনন্য মিলনস্থল।
এই জমকালো পোশাকটি ডিজাইন করেছেন প্রখ্যাত ডিজাইনার মণীশ মালহোত্রা। তিনি করণকে যেন এক চলন্ত ক্যানভাসে রূপান্তর করেছিলেন। কালো রঙের একটি সুগঠিত ভিত্তির ওপর লম্বা একটি কেপ (cape) ছিল এই পোশাকের আকর্ষণ। এতে সরাসরি রাজা রবি বর্মার চিত্রকর্ম থেকে অনুপ্রাণিত হাতে আঁকা মোটিফ ও সূচিকর্ম ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মফুল, রাজহাঁস এবং চিরায়ত ভারতীয় নকশা এতে আভিজাত্য এনে দিয়েছিল। পুরো পোশাকটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যেন মনে হয় একটি ফ্রেমের ভেতরে একটি মাস্টারপিস রাখা আছে।
করণের সাজে জুয়েলারিও ছিল দেখার মতো। তিনি ‘তিয়ানি জুয়েলারি’-র ডিজাইন করা নেকলেস ও আংটি পরেছিলেন। এর সঙ্গে ‘আনা-কারিন কার্লসন’-এর চশমা এবং ‘কপার ম্যালেট’-এর জুতো তাঁর লুকে এক আন্তর্জাতিক আভিজাত্য যোগ করেছিল। বিখ্যাত স্টাইলিস্ট একা লাখানি ভারত ও নিউ ইয়র্কের টিমকে নিয়ে করণের এই লুকটি নিখুঁতভাবে তৈরি করেন। ভারতের আলিম হাকিম ও পরেশ কালগুটকর তাঁর চুল ও মেকআপের দায়িত্বে ছিলেন। সোশাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা করণের এই অভিষেককে ‘সেরা’ তকমা দিয়েছেন। এটি কেবল একটি পোশাক ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় শিল্পকলাকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের এক সাহসী প্রচেষ্টা।





