পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের ঢেউ এবার আছড়ে পড়ল প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশেও। এপার বাংলায় তৃণমূল সরকারের পতনের পর ওপার বাংলার রাজনৈতিক মহলে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান শাসক দল বিএনপি (BNP) এই জয়কে দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বিএনপি দাবি করেছে, তাঁর একগুঁয়েমির কারণেই গত এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল তিস্তা জলবন্টন চুক্তি।
সম্প্রতি সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বিএনপি-র তথ্য সচিব আজিজুল বারি হেলাল পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে জয়লাভের জন্য বিজেপিকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি অত্যন্ত আশাপ্রকাশ করে বলেন যে, বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে এক নতুন এবং ইতিবাচক উচ্চতায় নিয়ে যাবে। হেলালের কথায়, “এতদিন তিস্তা জলবন্টন চুক্তির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আপত্তির কারণেই দুই দেশের কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেও এই চুক্তি কার্যকর করতে পারেনি।”
বিএনপি নেতার মতে, এবার পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠন করার ফলে দিল্লির নরেন্দ্র মোদী সরকারের সঙ্গে কলকাতার সমন্বয় আরও বাড়বে। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে। হেলাল আরও যোগ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তা ব্যারেজ এবং বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু এখন আমাদের বিশ্বাস, বাংলার নতুন বিজেপি সরকার মোদী সরকারের বিদেশনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ ও ন্যাজ্য পাওনার বিষয়টিকে সমর্থন জানাবে।”
উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জল ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জল চুক্তির মেয়াদ এই বছরেই শেষ হতে চলেছে। বাংলাদেশের অভিযোগ, শুকনো মরশুমে ফরাক্কা বাঁধ থেকে যে পরিমাণ জল পাওয়া যায় তা চাষাবাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে, ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় তিস্তার ৩৭.৫ শতাংশ জল বাংলাদেশকে দেওয়ার একটি খসড়া তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র বিরোধিতার মুখে সেই ঐতিহাসিক চুক্তি ভেস্তে যায়। এবার বাংলায় পালাবদল হতেই সেই জট খোলার আশায় প্রহর গুনছে ঢাকা। দিল্লির বন্ধুত্বের হাত এবার কলকাতার মাধ্যমে আরও মজবুত হবে, এমনটাই ধারণা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের।





