মেট গালায় কি তবে উপোস? খাবারের মেনু থেকে মোবাইল—অ্যানা উইন্টোরের অদ্ভুত সব নিয়মের আড়ালে আসল রহস্য!

প্রতি বছর নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্টসে আয়োজিত ‘মেট গালা’ মানেই বিশ্ববিখ্যাত তারকাদের চোখধাঁধাঁ ফ্যাশন আর গ্ল্যামারের মেলা। কিন্তু লাল গালিচার এই ঝলকানির নেপথ্যে যে কতটা কঠোর অনুশাসন মেনে চলতে হয়, তা জানলে সাধারণ মানুষের চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। ফ্যাশন দুনিয়ার সম্রাজ্ঞী তথা ভোগ ম্যাগাজিনের এডিটর-ইন-চিফ অ্যানা উইন্টোর এই গোটা অনুষ্ঠানের হর্তাকর্তা। তাঁর কড়া নজরদারিতে মেট গালায় এমন কিছু অদ্ভুত ও বিচিত্র নিয়ম জারি করা হয়, যা ভাঙার সাহস পান না নামী-দামী হলিউড তারকারাও।

মেট গালার নিয়মের তালিকায় সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয়টি হলো খাবারের মেনু। এখানে খাবারে রসুন কিংবা পেঁয়াজ ব্যবহার করা প্রায় নিষিদ্ধ। কেন এই বিচিত্র সিদ্ধান্ত? আয়োজকদের মতে, মেট গালার মতো হাই-প্রোফাইল ইভেন্টে তারকারা একে অপরের খুব কাছাকাছি বসে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। মুখে দুর্গন্ধের কারণে যাতে কোনো তারকা অস্বস্তিতে না পড়েন, তাই এই নিয়ম। এখানেই শেষ নয়, মেনু থেকে এমন সব খাবার বাদ দেওয়া হয় যা দাঁতের ফাঁকে আটকে যেতে পারে কিংবা যা ড্রেসে পড়লে কোটি টাকার পোশাক নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।

স্মার্টফোনের যুগে আরও একটি চমকপ্রদ নিয়ম হলো ‘নো সেলফি’। অনুষ্ঠানের ভেতরে কোনোভাবেই মোবাইল ব্যবহার করে সেলফি তোলা বা ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা যায় না। অ্যানা উইন্টোর চান, অতিথিরা যেন ফোনের স্ক্রিনে মুখ গুঁজে না থেকে একে অপরের সঙ্গে প্রকৃত অর্থে আড্ডা দেন। তবে নিয়ম ভাঙার নেশা তারকাদেরও আছে। মাঝে মাঝে দেখা যায়, দীপিকা পাড়ুকোন বা কাইলি জেনারের মতো তারকারা বাথরুমে লুকিয়ে সেলফি তুলে তা ভাইরাল করে দিচ্ছেন।

এছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে ধূমপান বা ই-সিগারেট মেট গালায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অতিথিরা সঙ্গে করে বড় ব্যাগ, সেলফি স্টিক কিংবা ড্রোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন না। যেহেতু অনুষ্ঠানটি একটি ঐতিহাসিক মিউজিয়ামের ভেতরে হয়, তাই সেখানে রাখা প্রাচীন ও মূল্যবান শিল্পকর্মে হাত দেওয়া বা তার ক্ষতি করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই কড়া নিয়মগুলিই আসলে মেট গালাকে বিশ্বের অন্যতম ‘এক্সক্লুসিভ’ ইভেন্টে পরিণত করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy