টলিউডে তিনি বহু বছর ধরে পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছেন। অভিনয় দক্ষতায় জয় করেছেন হাজার হাজার মানুষের মন। কিন্তু পর্দার এই উজ্জ্বল মুখের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর মানসিক যন্ত্রণার ইতিহাস। দীর্ঘ সময় চুপ থাকার পর অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেতা সৌরভ দাস। বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবিতে অভিনয় করার পর থেকেই তাঁর জীবনে নেমে এসেছিল অন্ধকারের ছায়া। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি নাম না করে টলিউডের প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তিনি।
সৌরভ তাঁর ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, ‘দাদা, মানুষজনকে ফোন করে এবার বলো দেখি— সৌরভকে কাস্ট কোরো না, ওকে বাদ দাও। সাহস কীভাবে হয় ওর গোপাল পাঁঠা করার?’ অভিনেতার দাবি, একটি নির্দিষ্ট ছবিতে অভিনয় করার কারণে তাঁকে পরোক্ষভাবে টলিউডে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফোন যেত প্রযোজক-পরিচালকদের কাছে, যাতে সৌরভকে কোনও কাজ না দেওয়া হয়।
এই মানসিক অত্যাচারের বর্ণনা দিতে গিয়ে সৌরভ আরও জানান, এক সময় তিনি রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। অভিনয়ের মাধ্যমেই তাঁর সংসার চলে। ফলে কাজ হারিয়ে কীভাবে পরিবারের দায়িত্ব সামলাবেন, সেই চিন্তায় তিনি রাতের পর রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি তাঁর প্রথম বলিউড প্রজেক্ট ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ এ রাজ্যের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সৌরভের পরিবারকে তাঁর প্রথম বড় কাজ বড়পর্দায় দেখতে টাটানগর পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় অপমান আর কী হতে পারে?
পোস্টের শেষে তিনি অনুপম খেরের আশীর্বাদের কথা উল্লেখ করে জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও তিনি নিজের কাজের প্রতি সৎ ছিলেন। ‘বেঙ্গল ফাইলস’ ছবির চিত্রনাট্য তাঁকে সম্পূর্ণ দেওয়া হয়নি বলেও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ‘কর্মফল প্রত্যেককে ভোগ করতে হয়।’ এবার তিনি বাংলায় ফের ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। সৌরভের এই পোস্ট এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল, যা টলিউডের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক প্রভাবের কঙ্কালসার চেহারাটা আবারও সামনে এনে দিল।





