রূপোলি পর্দায় এবার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনকথা, আসছে বিগ বাজেটের সিনেমা ‘শ্যামা’

ভারতীয় রাজনীতির ধ্রুবতারা, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে কলকাতায় নির্মাণ করা হতে চলেছে ১২৫ ফুট উঁচু এক সুবিশাল মূর্তি। পরিকল্পনা মাফিক কাজ সম্পন্ন হলে এটিই হবে দেশের মাটিতে ড. মুখোপাধ্যায়ের সর্বোচ্চ মূর্তি, যা নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
শুধু মূর্তি নয়, ড. মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও দর্শনকে সেলুলয়েডের পর্দায় তুলে ধরতে শুরু হয়েছে নতুন বাংলা ছবি ‘শ্যামা’ (Shyama)-র কাজ। ছবিটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সুচন্দ্রা ভানিয়া এবং চন্দ্রোদয় পাল। ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩-এর অস্থির সময়কালকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এই ছবি কেবল একটি বায়োপিক নয়, বরং ইতিহাসের এক অগ্নিগর্ভ সময়ের দলিল। ছবিতে উঠে আসবে কীভাবে দেশভাগের সংকটময় মুহূর্তে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখতে অবিচল লড়াই চালিয়েছিলেন। হিন্দু বাঙালিদের নিরাপত্তা এবং উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় তাঁর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এই সিনেমার অন্যতম মূল উপজীব্য।
পরিচালকদ্বয়ের মতে, ‘শ্যামা’ নামটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে এটি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামকে নির্দেশ করে, অন্যদিকে এটি কলকাতার অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা কালীর প্রতীকী রূপ। এই দ্বৈত অর্থের মাধ্যমেই ছবির মূল ভাবধারাকে সাজানো হয়েছে। পরিচালক চন্দ্রোদয় পাল জানিয়েছেন, ইতিহাস কেবল কিছু তারিখের সমষ্টি নয়, বরং আদর্শের জন্য লড়াই করা মানুষের গল্প। তাঁরা চান দর্শকদের নতুনভাবে ইতিহাসের সেই সংকটময় অধ্যায় নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করতে।
সুচন্দ্রা ভানিয়া বলেন, “ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র বিভীষিকা, দেশভাগের যন্ত্রণা এবং আদর্শগত সংঘাতের দলিল এই ছবি। আমরা দর্শকদের সেই সময়কার মানবিক বিপর্যয় ও উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচয় করাতে চাই।” তৎকালীন ভারতের অখণ্ডতা রক্ষায় তাঁর সেই ঐতিহাসিক স্লোগান—”এক দেশে দুই বিধান, দুই প্রধান, দুই নিশান চলবে না”—এই সিনেমার মাধ্যমে আজকের প্রজন্মের কাছে পুনরায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। যদিও সিনেমার কলাকুশলী বা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নাম এখনও চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে নির্মাতাদের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে প্রবল আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। ইতিহাসের পাতায় লুকিয়ে থাকা এক বলিষ্ঠ রাষ্ট্রনায়কের আত্মত্যাগের কাহিনি দেখার অপেক্ষায় এখন উৎসুক দর্শক।