বক্স অফিসে ফ্লপের তকমা, অথচ এই ছবিই বদলে দিয়েছিল কৃতি স্যাননের জীবন! আজ কোন বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করল ‘মিমি’?

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কৃতি স্যানন তাঁর চলচ্চিত্র কেরিয়ারে একের পর এক সুপারহিট ও দর্শকপ্রিয় ছবি উপহার দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে আজ আমরা আলোচনা করব সেই বিশেষ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রটি নিয়ে, যা এই প্রতিভাবান অভিনেত্রীর ঝুলিতে এনে দিয়েছিল মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কারের সম্মান। আজ অর্থাৎ ২৬শে জুলাই, কৃতি স্যাননের বহুল আলোচিত ও প্রশংসিত ছবি ‘মিমি’ সফলভাবে তার মুক্তির পাঁচ বছর পূর্ণ করল। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৬শে জুলাই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি বড় পর্দায় আসার আগেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও হাইপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল।

বিখ্যাত পরিচালক লক্ষণ উটারকরের পরিচালনায় নির্মিত ‘মিমি’ ছবিটির মোট বাজেট ছিল প্রায় ২৫ কোটি টাকা। এই সিনেমায় কৃতি স্যাননের পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নজরকাড়া চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জাত অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠি। ছবির চিত্রনাট্য, আবেগঘন গল্প এবং কৃতি স্যাননের নিখুঁত অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছিল, যার ফলেই জনপ্রিয় মুভি ডেটাবেস আইএমডিবি-তে (IMDb) এই ছবি ৭.৮-এর একটি দারুণ রেটিং অর্জন করতে সক্ষম হয়।

তবে এই ছবির মুক্তির নেপথ্যে রয়েছে এক চাঞ্চল্যকর ইতিহাস। অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের জাদুকরি সুরে সেজে ওঠা ‘মিমি’ সিনেমাটি কিন্তু প্রথাগতভাবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। পাইরেসি ও অন্যান্য কারণে এটি সরাসরি জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স এবং জিওসিনেমায় প্রিমিয়ার করা হয়েছিল। ফলস্বরূপ, ছবিটি বক্স অফিসে কোনো থিয়েটারিক্যাল আয় করতে পারেনি এবং বড় পর্দা থেকে সরাসরি আর্থিক উপার্জনের খাতা শূন্যই থেকে যায়।

আসলে, চলচ্চিত্রটি ২০২১ সালের ৩০শে জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর আগেই সিনেমাটি অনলাইনে সাইবার অপরাধীদের কবলে পড়ে এবং ইন্টারনেটে সম্পূর্ণ ফাঁস হয়ে যায়। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পাইরেসির হাত থেকে ছবিকে রক্ষা করতে নির্মাতারা বাধ্য হয়ে পূর্বনির্ধারিত সময়ের চার দিন আগেই, অর্থাৎ ২০২১ সালের ২৬শে জুলাই, এটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দিয়ে দেন। পাইরেসি এবং সরাসরি ডিজিটাল রিলিজের মতো বড় ধাক্কা সত্ত্বেও ছবিটি দর্শকের মনে গভীর রেখাপাত করতে সক্ষম হয় এবং ওটিটি দুনিয়ায় ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়।

মুক্তির পর ‘মিমি’ দর্শক এবং সমালোচক উভয়ের কাছ থেকেই অত্যন্ত ইতিবাচক ও দুর্দান্ত সাড়া পেয়েছিল। সারোগেসি বা গর্ভভাড়া নেওয়ার মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, সামাজিক ও জটিল বিষয়কে গল্পের মূল প্রতিপাদ্য করে নির্মিত এই ছবিতে কৃতি স্যাননের অভিনয় সবচেয়ে বেশি ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সমালোচকরা একবাকায় স্বীকার করেছিলেন যে এই ছবিতে কৃতির রূপায়ণ ছিল তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। শুধু দর্শকপ্রিয়তাই নয়, অসাধারণ এই অভিনয়ের সুবাদেই ৬৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘সেরা অভিনেত্রী’ (Best Actress)-এর লোভনীয় ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করে নিয়েছিলেন কৃতি স্যানন, যা তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে।